১.চারদিকে লাশের স্তুপ
সাবিনা সিদ্দিকী শিবা
চারপাশে আজ লাশের স্তুপ,
ঝলসে যাওয়া মুখ।
লেলিহান দাবালনের জ্বলছে,
কাঁপছে ভয়ে বুক।
আকম্পিত সব দাউদাউ করে,
জ্বলে উঠেছে যখন।
বাঁচার আকুতি আর্তচিৎকারে রথ,
কত শত মানুষ তখন।
কার বুকের ধন পুড়ছে আগুনে
ছটফট করেছে বাঁচার।
কেউ কেউ পুড়ে চাই হয়েছে,
বেরিয়েছে প্রাণ খাঁচার।
আজ হবে কারও শেষ গোছল,
জুম্মা মোবারক দিনে।
হে খোদা তালা রহমত করও,
কেউ নেই তুমি বিনে।
বেহেস্ত উচ্চ মাকামে বাসিন্দা করিও,
এই শহীদ বান্দাদের।
জীবিতদের তুমি সুস্থ করিও,
দ্রুত তোমার হাতে ফের।
আরও পড়ুন গল্প: চৈত্রের দুপুরে প্রেম পুকুরে
২.নদীর কোলে ঘর
সাবিনা সিদ্দিকী শিবা
কালবৈশাখী আকাশ ফুঁড়ে
উঠছে কঠিন ঝড়,
পাইনা খুঁজে আথালপাথাল
আমার ছোট্ট ঘর।।
ঝাপসা চোখে ঘোর আঁধারে
দেখছি সবই কালো,
কোথা গেলো আজকে আমার
চোখের এতো আলো।
ঘরবাড়ি সব চলছে ছুটে
কোন সে সুদূর পাহাড়,
সকল কিছু এলোমেলো
হুশ নেই যে তাহার।
নদীর পাশে বাড়ি আমার
হঠাৎ উঠলো ঝড়,
পাইনা খুঁজে নদীর তীর,
পাইনা আমার ঘর।
আকাশ থেকে মেঘের তুড়ে
উঠছে তেড়ে ফুলকি,
ঝড়ের বেগে দালানকোঠা
নড়ছে কেমন দুলকি।
নদীর পাড়ের মানুষ আমরা
ভয় করিনা কিছু,
ঝড়তুফানের সাথেই চলি
হাঁটি পিছু পিছু।
নদীর স্রোতে ঘরের চালা
চলছে কোথায় ছুটে,
সর্বনাশা গভীর খাদে সব
খাচ্ছে লুটেপুটে।
স্বপ্ন-সাজানো ঘরটি আমার
নৌকার মতো দোলে,
সকাল বেলায় রোদের হাসি
বিকালে নদীর কোলে।
আরও পড়ুন কবিতা: বেইলি রোডে লাশের গন্ধ
৩.দেয়ালে বন্দি বিস্মৃতি
সাবিনা সিদ্দিকী শিবা
হাত বাড়ালেই মুঠো ভরে,
ছোঁয়া যায় সুখ।
কিন্তু আমার সুখ চাইনা যে,
মনে যে অসুখ।
সুখের চেয়ে এখন খুঁজি,
শস্যে ভরা মাঠ।
চাইযে লিখতে মনটি খুলে,
গুরুচন্ডালী পাঠ।
পাঠ করতে চাই বসুন্ধরা,
আলো ভাসানী রাতে।
বিস্ময়কর ব্যাপার স্যাপার,
ঘটলে কারো সাথে।
মনের ভিতর কু’ডাক বুঝি,
ডাকে যে ম্লানমুখে।
উঠাতে চাই সুখের কেতন,
সবাইকে নিয়ে সুখে।
জীবনে এখন সবই ধোঁয়াসা,
কুয়াশা ঘেরা মন।
ফেলে আসা স্মৃতি গুলোই,
পুড়ায়া সারাক্ষণ।

0 Comments