Subscribe Us

জামায়াত ইসলামী ও ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্র: বাংলাদেশের রাজনীতির এক অনিশ্চিত অধ্যায়

জামায়াত ইসলামী ও ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্র: বাংলাদেশের রাজনীতির এক অনিশ্চিত অধ্যায়

বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াত ইসলামী বরাবরই একটি বিতর্কিত ও সংঘাতমুখী শক্তি হিসেবে পরিচিত। নির্বাচন, গণতন্ত্র ও জনমতের প্রতি অগাধ অনাস্থা প্রদর্শন করে দলটি বরাবরই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার জন্য বিকল্প পন্থার অনুসন্ধান করে এসেছে। বিশেষত, সাম্প্রতিক সময়ে আফগানিস্তান ও সিরিয়ার মতো সহিংস পন্থায় ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ দেশটির রাজনীতিতে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

শিবির সদসরাই সমম্বয়ক এবং নাগরিক কমিটি গঠন করেছে।

নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার সীমাবদ্ধতা

জামায়াত ইসলামী জানে যে তাদের এককভাবে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য। বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কার্যক্রম ও ১৯৭১ সালে তাদের ভূমিকা নিয়ে এখনও ব্যাপক নেতিবাচক মনোভাব বিরাজমান। এ কারণে তারা গণতান্ত্রিক পন্থা এড়িয়ে ষড়যন্ত্রমূলক কৌশল গ্রহণ করেছে।

আরও পড়ুন: জুলাই আগষ্টের ষড়যন্ত্রের নীল-নকশা:

কোটা আন্দোলনের আড়ালে সহিংসতা

জুলাই-আগস্টের কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে জামায়াত ইসলামী সরকার পতনের চেষ্টা চালিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এই আন্দোলনকে ব্যবহার করে তারা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারকে দুর্বল করার চেষ্টা করে। আন্দোলন শেষে জামায়াত তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর মাধ্যমে সহিংসতার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে, যা বাংলাদেশকে এক অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেয়।

ড. ইউনুস ও ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু

জামায়াত ইসলামী একটি নতুন কৌশল হিসেবে ড. ইউনুসকে ব্যবহার করে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে প্রবেশের চেষ্টা করছে। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও মর্যাদাকে কাজে লাগিয়ে তারা সরকারে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করতে চেয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় ছাত্র শিবিরকে আড়ালে রেখে ছাত্র সমন্বয়ক নামে একটি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে, যা জামায়াতের দীর্ঘমেয়াদি ষড়যন্ত্রের অংশ।

ছাত্র সমন্বয়ক ও ষড়যন্ত্রের কৌশল

ছাত্র শিবিরের নাম বদলে ছাত্র সমন্বয়ক গঠন করা জামায়াতের একটি সুপরিকল্পিত কৌশল। এ সংগঠনের মাধ্যমে তারা সরকারের বিভিন্ন পদে নিজেদের অনুগত ব্যক্তিদের নিয়োগ দিয়ে প্রশাসনিক কাঠামোয় প্রভাব বিস্তার করছে। এর ফলে, তারা বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম দমন এবং নিজেদের অবস্থানকে শক্তিশালী করছে।

আরও পড়ুন: ছাত্র শিবিরের গোপন ষড়যন্ত্র:

নির্বাচনহীন ক্ষমতা চর্চা

জামায়াত ইসলামী মনে করে, নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ না হলেও বিএনপি ক্ষমতায় আসবে। বিএনপির ক্ষমতায় ফেরা আওয়ামী লীগকে পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সুযোগ করে দেবে। এক সময় আওয়ামী লীগ শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসলে, জামায়াতের বর্তমান ষড়যন্ত্রের বিচার হবে। এই ভয়ে তারা নির্বাচন এড়িয়ে, নিজেদের ক্ষমতা ধরে রাখার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।

গণতন্ত্রের সংকট ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা

জামায়াত ইসলামী ও তাদের সহযোগীদের এই ষড়যন্ত্র বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য একটি বড় হুমকি। নির্বাচনবিহীন ক্ষমতা চর্চা ও গণতান্ত্রিক কাঠামোকে দুর্বল করার প্রয়াস দেশকে এক অস্থিতিশীল অবস্থায় ফেলে দিচ্ছে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াত ইসলামী তাদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য সবসময়ই নানা ষড়যন্ত্র ও বিকল্প পন্থা অবলম্বন করেছে। তাদের এই ষড়যন্ত্র শুধু আওয়ামী লীগের জন্য নয়, পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য হুমকি। এই প্রেক্ষিতে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক কাঠামো ও জনগণের ঐক্যই হতে পারে জামায়াত ইসলামী ও তাদের সহিংসতার পরিকল্পনা রোধ করার মূল অস্ত্র।

Post a Comment

0 Comments