পাকিস্তান আফগান যুদ্ধ: পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ চায় আফগান অথবা ভারতের অংশ হতে।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনাপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে তালেবান যোদ্ধাদের পাকিস্তানি সীমান্তে আক্রমণ এবং আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় শক্তি বাড়ানোর ফলে দুই দেশের সম্পর্ক আরও খারাপ হয়েছে। পাকিস্তানি জনগণের মধ্যে তালেবানপ্রীতি ও নিজেদের দেশের প্রতি অসন্তোষ স্পষ্টতই একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আরও পড়ুন: পাকিস্তান ভেঙ্গে তিনটি রাষ্ট্র গঠনের ষড়যন্ত্র : চীন ও ভারতের পরিকল্পনা ফাঁস করলো উইকিলিপি।
দুই দেশের সম্পর্কের মূল জটিলতা শুরু হয় ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের স্বাধীনতার পর। আফগানিস্তান কখনো পাকিস্তানকে পুরোপুরি মেনে নেয়নি। পাকিস্তানও আফগানিস্তানে নিজের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছে। তালেবানের উত্থান এবং তাদের পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে দুই দেশ বেশ কয়েকবার আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়েছে। তবে সাম্প্রতিক উত্তেজনা পারস্পরিক শত্রুতার নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করেছে।
তালেবান যোদ্ধারা পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আক্রমণ করে কিছু এলাকা দখল করেছে। এ ঘটনায় পাকিস্তানের সরকার কূটনৈতিকভাবে চীন ও ভারতকে দায়ী করেছে। তবে পাকিস্তানি জনগণের একটি বড় অংশ তালেবানদের এই পদক্ষেপে খুশি।
পাকিস্তানের সাধারণ মানুষ তাদের সরকারের ব্যর্থতায় হতাশ।
খাবার, বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাসের অভাব মানুষের জীবনে অসহনীয় অবস্থা তৈরি করেছে।
বিদেশে পাকিস্তানি নাগরিকদের "ভিখারি" এবং "সন্ত্রাসী" বলে অপমান করা হয়।
দীর্ঘদিনের দারিদ্র্য, বেকারত্ব এবং দুর্নীতির ফলে পাকিস্তানের জনগণ তাদের রাষ্ট্রব্যবস্থার ওপর আস্থা হারিয়েছে।
অনেকেই মনে করেন, পাকিস্তান আফগানিস্তান বা ভারতের দখলে গেলে জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।
পাকিস্তানি নাগরিকদের কিছু অংশ তালেবানদের অর্থাৎ আফগানিস্তানের সাথে পাকিস্তান এক হয়ে যাক।
আবার আর এক অংশ মনে করে,ভারতের সাথে পাকিস্তান এক হয়ে যাক। এতে করে উন্নত জীবন পাবে তারা।
তালেবানদের বর্তমান লক্ষ্য কাবুল দখল করা। তাদের ক্রমাগত অগ্রগতি আফগানিস্তান ও এর প্রতিবেশীদের জন্য উদ্বেগজনক। পাকিস্তান সরকার অভিযোগ করেছে যে চীন ও ভারত তালেবানদের পেছনে সমর্থন দিচ্ছে। যদিও এর সত্যতা নিয়ে বিতর্ক আছে, তবে এটি পাকিস্তানের কূটনৈতিক চাপ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার সংকটকে স্পষ্ট করে।
পাকিস্তানের অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে।
আন্তর্জাতিক ঋণের বোঝা, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের জীবন কঠিন করে তুলেছে।
সরকার দুর্নীতিগ্রস্ত এবং অদক্ষ বলে জনগণের মধ্যে ধারণা গড়ে উঠেছে।
জনগণের আস্থা ফিরে পেতে সরকার বারবার ব্যর্থ হয়েছে।
নিরাপত্তাহীনতা এবং সন্ত্রাসবাদের কারণে পাকিস্তানি সমাজে অস্থিরতা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সুশাসনের অভাব ও মৌলিক চাহিদার সংকট মানুষকে হতাশ করে তুলেছে।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি কেবল দুটি দেশের জন্য নয়, পুরো অঞ্চলের জন্য অশান্তির কারণ হয়ে উঠেছে। পাকিস্তানি জনগণের তালেবানদের প্রতি সমর্থন এবং নিজেদের দেশের প্রতি অসন্তোষ এ সংকটকে আরও গভীর করেছে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান যদি অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে না পারে, তবে দেশটির ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
একটি কার্যকরী সমাধানের জন্য পাকিস্তানকে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। অন্যথায়, এই সংকট কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলবে না, বরং পুরো দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতাকে বিপন্ন করবে।

0 Comments