স্বপ্ন ভাঙ্গা স্বপ্নের ফুটবল
____চিন্ময় নন্দী
রোহনের মনে একটি বড়ো সাধ্ ছিল সে বড়ো হয়ে একজন বড়ো ফুটবল খেলোয়াড় হয়ে উঠবে। তাঁর যশ, খ্যাতি, সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে। এই উদ্দেশ্যে সে একনিষ্ঠ ভাবে ফুটবল খেলা গভীর আগ্রহে অনুশীলন করতে থাকে। সবসময় ফুটবল নিয়ে ব্যতিব্যস্ত। সে যে কক্ষে পড়াশোনা করত সেখানে কক্ষের দেওয়ালগুলি শুধু ফুটবল খেলোয়াড়ের ছবিতে ছিল ভর্তি। তাঁর স্বপ্ন ছিল বড়ো ফুটবল খেলোয়াড় হওয়ার। সে তিলেতিলে তাঁর স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে এগিয়ে চলেছিল। বিদ্যালয়ে, খেলার মাঠে, জেলাস্তরে ফুটবল খেলায়, ব্লকস্তরে খেলায় ভালোই নাম কামিয়েছিল।
আরও পড়ুন: চৈত্রের বিকেল
কিন্তু হায়! নিষ্ঠুর বিধাতা একি হল, তাঁর স্বপ্নগুলো এক নিমেষে যেন ভেঙে চুরমার হয়েগেল। যেন কোনো কালোমেঘে তাঁর স্বপ্নকে চিরতরে ভাসিয়ে নিয়ে গেল। তাঁর স্বপ্ন আর বাস্তবায়িত হলোনা বিধাতার নিষ্ঠুর পরিহাসে।
হঠাৎ একদিন রাতের বেলা ঘটে গেল এক দুর্ঘটনা। ঘুমন্ত অবস্থার মধ্য দিয়েই সাধে গড়া স্বপ্নের, স্বপ্ন দেখার জন্যই সমাধি হল।
কী ঘটেছিল সেদিন রাতে? সেকথা শুনলে দেহ শিউরে উঠবে, শরীরের লোম খাড়া হয়ে যাবে। সে বিছানায় শুয়ে ঘুমোতে ঘুমোতে স্বপ্ন দেখছিল। স্বপ্নটা ছিল একটি ফুটবল প্রতিযোগিতার। সেই স্বপ্নের মধ্যে রোহন মাঠে ফুটবল খেলতে নেমেছিল। কিন্তু তাঁদের দল বারবার গোল খাচ্ছিল ও পিছিয়ে পড়ছিল। তাই সে বিছানায় শুয়ে স্বপ্নে ফুটবল খেলছিল। কিন্তু এমন পরিস্থিতি হল যে। সে স্বপ্নে সজোরে একটি বলে কিক করেছিল এবং সেই কিক বাস্তবে বিছানার পাশের মজবুত দেওয়ালে লেগেছিল।
আরও পড়ুন : অমাবস্যার চাঁদ
কিক করা মাত্রই ঘুম ভেঙে যায় ও সে পায়ের ব্যথায় চিৎকার করতে থাকে এবং যন্ত্রনায় কাতরাতে থাকে। তখন তাঁর মা-বাবা ছুটে আসে ও তাঁকে চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করে। চিকিৎসক জানান যে তাঁর পায়ে অস্ত্রোপচার করে কৃত্রিম অস্থি স্থাপন করতে হবে। সে আর কখনো ওই পা দিয়ে ফুটবল খেলতে পারবে না বা ভারি কোনো কাজ করতে পারবে না। এখন সে শুধু মাঠের বাইরে বসে মনের দুঃখে অন্যদের খেলা দেখে ও দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে।
__________________🍁__________________

0 Comments