নীল চাঁদ
সমাপ্তি খাঁন চৌধুরী
আসমানের গায়ে উঠেছে বেপরোয়া নীল চাঁদ।
নীলাক্ত করেছে অসমতল ভূমির
সবটুকু দেহ।
তারই এক পাশে
প্রসব বেদনা কাতরাচ্ছে,
গোলাঘরে।
কবিতারা ভূমিষ্ট হচ্ছে
কষ্টের পেট চিরে।
অতঃপর সদ্য জন্মানো একটা
কবিতা চিৎকার করে কেদে
উঠলো আতুর ঘরে,
চারিদিকের নিস্তব্ধতা ভেঙ্গে।
আর পোয়াতি!
নীল কষ্ট থেকে আরক্ত লাভে
চিকমিকিয়ে ওঠে
কবিতার দরশনে।
🔷ইফতারে দইবড়া খেয়ে শরীরের ক্ষতি করছেন না তো?
জীবনের ছেঁড়া পাতা --
সমাপ্তি খাঁন চৌধুরী --
মলাট সরালেই খাতার সাদা পাতায় আঁকা যায়
নানা রঙের বর্ণাঢ্য ছবি।
তাতে থাকে মনের মাধুর্য
ছোঁয়ানো হরেক রকম ইচ্ছের
কারুকার্য।
রঙ ঢেলে, রঙ মেখে ম্যারিনেট
করে হয়ত বড় বড় গল্প তৈরী করা যায় ইচ্ছে মতো।
আঁকা যায় পাহাড় পর্বত টিলা।
কখনো নারী মূর্তি, অথবা
পৈশাচিক কর্মকাণ্ডের অনুপুঙ্খ।
কিন্তু না জীবন সে রকম না। এখানে কারো কারো,
সাদা পাতা, আজীবন সাদাই
থেকে যায়।
অথবা শেষ এক ফোটা জলের জন্য
অপেক্ষীয় চাতকের মত
বিফল মনের ছন্দপতন ঘটিয়ে
সাদা পাতা ভরে যায় কালো
অক্ষরে।
অথবা ছেঁড়া পাতাটি যত্ন করতে
হয় খুব গোপনে।
আর কারো কারো জীবন পাতা
খসে পড়ে এলোপাতাড়ি।
পরাণ মাঝির করুন কাব্য
সমাপ্তি খাঁন চৌধুরী
দেখে ছিলাম পনের বছর আগে,
পানশী নায়ের মাঝি।
তার সে চোখে মায়া ছিলো,
মুখে ছিলো হাসি।
করুন ছিলো হাতের বৈঠা
নাগাল ছিলো না
গভীর জলের ভাসা জীবন,
তীরে ছিলোনা।
উদাস বেলার তপ্ত দাহে
পরাণ পুড়েছিল,
নায়ের মাঝির মুচকি হাসি
চোখ জুড়িয়ে ছিলো।
ঠিক পনেরো বছর আগে,
দেখেছিলাম তাকে।
রঙটা গায়ের কালো ছিলো
বুঝে ছিলাম রোদে পুড়ে,
কষ্ট টা আমার বুকে এসে
লেগেছিল আলতো করে।
কি জানি কি হয়েছিল আমার,
পনেরো বছর আগে।
পনেরো বছর পরে,
সেই ঘাটেতে ফিরেছি আমি
মনের দরজা খুলে।
চোখ যায় যত দূরে,
দেখিনা আমি আসছে কেউ
পানশীতে পাল তুলে।
ঘাটের জল ঘেটে গেছে
নতুন রাস্তা হয়েছে শুরু,
সেই রাস্তায় চোখ মেলেছি,
পরাণ দুরুদুরু।
হঠাৎ দেখি পাশ কাটিয়ে
হেটে চলা মানুষ,
হকচকিয়ে প্রশ্ন করি,
এই গাঁয়ের ঔ মাঝি টা কই ?
ঐ যে, পানশী নায়ের
পরাণ মাঝি ?
কি জানি ! শুনেছিলাম
কোন এক ঝরের রাতে,
নৌকার নাকি তক্তা ভাসে,
ফেরেনি আার পরাণ মাঝি,
দেখেনি কেউ তাকে,
এই তো বছর তিনেক আগে।
হৃদয় যেন ছিদ্র হোলো,
লোকালয়ের ফাঁকে।
পনেরো বছর পরে ।


0 Comments