Subscribe Us

বকুল হক এর ৩টি কবিতা।

 

আঁচল

বকুল হক।


ও মা! তোমার মায়া মায়া সুতোয় বোনা 

আঁচলটা আজ কই? 

যে আঁচল দিয়ে মুখের ঘাম মুছে দিবে

আজো অপেক্ষায় রই।


মাগো তোমার আঁচল দিয়ে যখন

মুখ মুছিয়ে দিতে

বুক ভরে মা' মা' গন্ধ নিতাম

নিশ্বাস নিতে নিতে।


আঁচলটা যখন মাজায় গুজে

সারতে গৃহস্থালির কাজ

দেখতাম তোমায়, হার মেনে যেত

পৃথিবীর সব সাজ।


ওমা আমায় ফিরিয়ে দাও না 

প্রিয় সে আঁচল খানি

বাইনা করে করে আরেকটি বার 

ঐ আঁচল ধরে টানি।


প্রসাব করে সব ভাসিয়ে দিয়েছি

তুমি আঁচল দিয়েছো পেতে

মায়ের আঁচল মহিমায় ভরা

কে পারে সে দাম দিতে।


আজ সে আঁচল হারিয়ে গিয়েছে

আধুনিকতার হাতে

দিনের বেলা প্যন্ট কামিজ পরা

ম্যক্সি পরা রাতে।


আঁচলটা যখন আমার মাথায় দিতে

মনে হতো আকাশের মত ছাদ

মহিমান্বিত সে আঁচল হারিয়ে 

আজ জীবনটা বরবাদ।

🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺

এক ফোঁটা লোনাজল।

বকুল হক


একফোঁটা চোখের পানিতে 

কত অনু আছে আমি জানিনা,  

কষ্টের কত কোটি অথবা তারও বেশি 

অনুর পুঞ্জিভূত নির্যাসে হয়তো 

এক ফোঁটা অশ্রু হয়ে

 তিক্ত যন্ত্রণা কিম্বা গুপ্ত ব্যাথায় 

গুমরে মরা মেঘ ঘনীভূত হয়, 

হয়তো গড়িয়ে পড়ে অশ্রু 

চোখের ক্লান্ত কার্নিশ বেয়ে। 

আমার খুব ছুঁয়ে দেখতে ইচ্ছে হয় 

মুছিয়ে দেয়ার ছলে, 

হৃদয়ের গভীর অনুভূতি তন্ত্রে 

তির ভাঙা তান তুলে।

তিরোহিত হই তোমাতে। 

গড়িয়ে পড়া অশ্রু যেন বহতা নদী,

আমি সাঁতার কাটি, সাঁতার কাটি

 ক্লান্ত দেহ নোঙর হয়ে 

আটকে থাকে যদি,

তোমার চোখের পাটাতনে, দুর্বোধ্য অসীমে

অকারণ দাপিয়ে বেড়ায় আমার নির্বোধ  

কৌতুহলী ইচ্ছা।


চৈতী খরায় তৃষ্ণার্ত কুকুরের মত

জিহবা বের করে হাফাতে থাকি,

কোথা থেকে আসে কান্না? উত্তর মেলেনা, 

হঠাৎ বুঝি  এতটুকু, লোনা জল।

🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺

বিবর্ণ কবিতা।

বকুল হক।


আমার চলার পথের দুধারে; সারি বাঁধা গাছের মত অপেক্ষা করে কবিতায় জড়ো হওয়া শব্দ, 

পাতারা পায়ের কাছে ঝরে পড়ে গড়াগড়ি খায় 

বলে, লিখে যাও একটা কবিতা। 

আমি দিশেহারা হয়ে উদভ্রান্তের মত ভালোবেসে বুকে তুলে নিই তাকে। মগ্নতার গভীরে ডুব দিয়ে

খুঁজতে থাকি কবিতা, হয়তো অপ্রাপ্ত বয়সে ঝরে পড়া কোনো কিশোরীর চোখের জলে, অথবা বখে যাওয়া কিশোরের লুকিয়ে থাকা আর্তনাদে কেঁপে ওঠে কবিতা। অজান্তে জেগে ওঠা ব্যার্থ প্রেমের কান্নায় 

কাঁদতে থাকে কবিতা, 

হাড্ডি সার ক্ষুধার্ত শিশুর মলিন মুখে সকরুণ দৃষ্টির

গভীরে আছড়ে পড়ে ছটফট করে কবিতা।

হত দরিদ্র বাবা, প্রাণান্ত চেষ্টায়

দিনান্তে ঘরে ফেরে ভেজা চোখে, আধ পেটের

কবিতা হয়ে।

অসত্য পূজারী, ধান্দাবাজ, অসহায় বিমুখ দুর্মুখের

পাঁজরার কাঠি ভাংতে জেগে ওঠে কবিতা। 

নাহলে প্রকৃতি, পাখি,  নারী, গান মলিন হয় 

নব্যতা হারায় নদী, বিবর্ণ কবিতা।

🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺🔺

সর্বাধিক পঠিত


Post a Comment

0 Comments