Subscribe Us

চল্লিশ বছরের সাজানো বাগান নিমিষেই শেষ।



ছবির পাহাড় ছিলো। সব মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হায়না'রা পুড়িয়ে ফেলেছে। পুরো বাড়ি ওরা আগুনে পুড়িয়ে ফেলেছিলো। ছাঁই ছাড়া কিছুই অবশিষ্ট ছিলো না।

ভাইদের নামে হুলিয়া ছিলো। 

আমার মায়ের চল্লিশ বছরের তিল তিল করে সাজানো সংসার ঘর বাড়ি চোখের পলকেই শেষ করে দিয়েছিলো পাক নরপিশাচরা। 

একবার যা হারিয়ে যায় তা আর কখনো ফিরে পাওয়া যায় না। জীবন চলার পথে অনেক নতুন সংযোজন হয়,অনেক কিছু পাওয়া হয়,অনেক নতুনের আগমন ঘটে, কিন্তু যা জীবনের থেকে চলে যায়... তা আর কখনো ফিরে পাওয়া যায় না।

ছেলে বেলায় অনেক মজার স্মৃতি ছিলো। ভাই বোন বাবা মায়ের অসংখ্য স্মৃতি ছিলো,ছবিতে ছবিতে সব সাজানো। সেইসব ছবিগুলো আজ আর নেই। নেই আরো অনেক কিছু। মুক্তিযুদ্ধ যেমন আমাদের একটি নিজস্ব রাষ্ট্র পরিচয় দিয়েছে,দিয়েছে একটি পতাকা,স্বাধীনতার ভিন্ন এক স্বাদ,,,

সেই সাথে নিয়ে গেছে অনেক সুখস্মৃতি ও প্রিয়জন। যা কখনোই ফিরে পাবার নয়। যারা মুক্তিযুদ্ধের পরে জন্ম নিয়েছে,যারা মুক্তিযুদ্ধের আগের সময় এবং পরের সময়টা দেখে নাই,,তারা কখনোই উপলব্ধি করতে পারবে না,,,পাক নরপিশাচরা কতটা নিয়েছে এই দেশের মানুষের। কতটা ক্ষত তৈরি করে গেছে।

তিল তিল করে গড়ে তোলা চল্লিশ বছরের সাজানো বাগান কি করে এক পলকেই ধ্বংস হয়ে যায়,,তা আমার মা এবং তার মতো অনেক মায়েরাই দেখেছেন। কতটা যন্ত্রণায় পুড়েছেন।

_____ কল্পনা নাদিরা বানু

Post a Comment

0 Comments