আমাদের কিবলা পশ্চিমে। কোন পশ্চিমে? আরবে? না আমেরিকায়?
____অরন্য হাসান দেলোয়ার।
আমরা এখন সবকিছুই ইউরোপ আমেরিকার দিকে নজর রেখে করি। ইউরোপে যেতে চাই,আমেরিকায় যেতেই চাই।
ক্ষমতা পরিবর্তনের জন্য ইউরোপ আমেরিকার দিকে তাকিয়ে থাকি,রিযিকের জন্য ইউরোপ আমেরিকার উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকি।
আমাদের কিবলা আমাদের অজান্তেই পশ্চিম থেকে আরো পশ্চিমে চলে গেছে। আমরা এখন আল্লাহর উপর নয়,ইহুদিবাদ আর খ্রিস্টানদের উপর নির্ভরশীল এক জাতিতে পরিনত হয়েছি।
আমাদের চিন্তা,পোশাক,সব কিছুই এখন ইউরোপ আমেরিকা কেন্দ্রিক। আমরা মনে প্রাণে বিশ্বাস করি ইউরোপ আমেরিকা চাইলে.. আমাদের ক্ষমতা দিতে পারে,,আমাদের রিযিক দিতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে গাজা'য় গনহত্যা চলা অবস্থায় মুসলিম রাষ্ট্রগুলো নিজেদের ক্ষমতা হারানোর ভয়ে ফিলিস্তিনের পক্ষে জোড়ালো অবস্থান নিচ্ছে না। তারা বিশ্বাস করছে তাদের রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকা না থাকা আমেরিকা ইউরোপের হাতে। অর্থাৎ আল্লাহর হাতে নয়,এমন বিশ্বাস এখন প্রমাণ করে সবাই দাজ্জাল মুখি।
একদিকে গাজায় গনহত্যা চালাচ্ছে,অন্যদিকে ত্রাণ দিয়ে বুঝাচ্ছে আমরা চাইলে তোমাদের মৃত্যু ও জীবন দুটোই দিতে পারি। অর্থাৎ দাজ্জাল যেমন জীবন মৃত্যু দিতে পারবে,,ঠিক তেমনই এখন গাজায় ইউরোপ আমেরিকা তাই করছে। এরপরও যারা বলছে দাজ্জাল প্রকাশ হয়নি তারা দাজ্জালের ফিতনায় জড়িয়ে আছে।
এখন বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ ইউরোপ আমেরিকায় নিজেদের দেখতে চায়,,সবাই সেই দিকে ছুটছে। এই যে ইউরোপ আমেরিকার দিকে মানুষের ছুটে চলা এটাই প্রমাণ করে দাজ্জালের জান্নাতের দিকে মানুষ ছুটে চলছে অবিরাম।
দাজ্জাল তার কাজ করে ফেলেছে,মুসলিম নারীদের ঘরে রেখেই বেপর্দা করেছে ফেসবুক,ইউটিউব সহ সকল সামাজিক মাধ্যমে।
পুরুষদের ইউরোপ আমেরিকা মুখি করে ফেলেছে। বিল গটস,মার্ক জাকারবার্গ,এলন মাস্ক এরা এখন তরুনদের আইডল হয়ে গেছে। সবাই এখন ধনী হতে চায়। সম্পদ আহরনের এক নেশা মুসলিম তরুনদের ভিতরে দাজ্জাল ঢুকিয়ে দিয়েছে।
আলেম সমাজও এখন ধন সম্পদ আহরনের দোয়া শিখায় ওয়াজে। আলেম সমাজও এখন দাজ্জালের ফিতনায় জর্জরিত।
দাজ্জাল নিজেকে ইশ্বর রুপে তুলে ধরেছে,আর অধিকাংশ মুসলমান সেটা মেনে নিয়েছে অজান্তেই।
দাজ্জাল তার কাজে সফল হয়েছে। এই সফলতা দাজ্জালকে আরো সাহসী করে তুলছে। ইরাক,সিরিয়া,লিবিয়া,আফগান ফিলিস্তিন ধ্বংসের নীল নকশায় অধিকাংশ মুসলিম রাষ্ট্রগুলো দাজ্জালের সাথেই ছিলো।
এখনো দাজ্জালের সাথেই তারা জোট বেঁধে আছে। অধিকাংশ মুসলমান রাষ্ট্র প্রধান বিশ্বাস করেন যে তাদের রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকা না থাকা আমেরিকার হাতে। আমেরিকা চাইলেই অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দিয়ে তাদের রিযিক কেড়ে নিতে পারেন।
অথচ আল্লাহ খুব সুন্দর উদাহরণ রেখেছেন ইরান,ইরানের উপর সব ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও ইরানের মানুষ খেয়ে পড়ে বেঁচে আছেন,ইরানের রাষ্ট্র ক্ষমতাও আমেরিকা চাইলেই পরিবর্তন করতে পারছেন না।
সবচেয়ে বড় উদাহরণ বাংলাদেশ। বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতা পরিবর্তনের কি চেষ্টাটাই না করেছে আমেরিকা বিগত ৭ই জানুয়ারীর নির্বাচনের আগে,,কত রকম ভয় ভীতি পরিদর্শন করেও আমেরিকা পিছন হটেছে,,,এ থেকেও মানুষ শিক্ষা নেয় না,,যে,,ক্ষমতা ও রিযিক এই দুটোর মালিক আল্লাহ।
অথচ, অধিকাংশ বুদ্ধিজীবী রাজনৈতিক নেতারা বিশ্বাস করেন আমেরিকা চাইলেই বাংলাদেশের ক্ষমতার পরিবর্তন হতে পারে,,চাইলেই আমেরিকা বাংলাদেশের রিযিক কেড়ে নিতে পারেন। এই বিশ্বাস মানে হলো দাজ্জালকে ঈশ্বর রুপে স্বীকৃতি দেয়া।
সামনের দিনে দাজ্জাল আরো ভয়ংকর রুপে আবির্ভূত হবে। সেই ইঙ্গিত দাজ্জাল তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দিয়েছে,ন্যাটো তার আগ্রাসন শুরুর সবরকম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। সদদ্য সংখ্যাও বাড়াচ্ছে।
দাজ্জাল থেকে বাঁচার এখন একটাই উপায়। আল্লাহর প্রতি আনুগত্য স্বীকার করা। আর ইউরোপ আমেরিকার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া।

0 Comments