তোরে কইছিলাম তুই উত্তর পাড়ার মোল্লা বাড়ি যাবি না।তারপরও ক্যান গেলি?
হুনো মিয়া ভাই,আমি অহন বড় অইছি। আমিও ভালা মন্দ বুঝি। কই যামু,কার সাথে কথা কইমু সব আমার জানা আছে।
হ,অহন তো অনেক বড় হইয়া গেছো। তয় পিছনের ইতিহাস না জানলে বড় হওয়া যায় না ভাই। তুই যতই বড় হও,পিছনের ইতিহাস ভুইলা যাইও না।
দেখো ভাইজান,সেই কবে দাদার আমলে মোল্লা বাড়ির লগে এই সিকদার বাড়ির কি ঘটনা ঘটছিলো তা আমার জানার দরকার নাই। তাছাড়া হেইড্যা তখন কার মানুষজনের ব্যাপার।আমাগো সময় তো আএ মোল্লা বাড়ির লোকজন খারাপ না। অহন মোল্লা বাড়ির লোকজন আমাগো অনেক সম্মান করে। ইজ্জত করে।
হ,করে।আমিও কই করে। তয় আমাগো উন্নতি দেইখ্যা করে। এহন ওরা ঋণে জর্জরিত ঠিক মতো খাইতে পায় না। এইজন্য করে। ঠিকই যখন খারাপ সময় ফিরা যাইবো তহন আবার দেখবি বিষাক্ত সাপ ঠিকই ফনা তুলছে।
যখন তুলবো তখন দেখা যাইবো। তুমি তোমার কামে যাও।এই ফালতু প্যাচাল পাইরা লাভ নাই।
হ,যাইতাছি। তয় অভিশাপ দেই ওই মোল্লা বাড়ির উপর। অভিশাপ দেই।
সেই ৫২ বছর আগের কথা। আরিফ সিকদার উত্তর পাড়ার বাসিন্দা ছিলো। মোল্লাবাড়ির পাশের বাড়িই ছিলো সিকদার বাড়ি। তখন সম্পদ মোল্লারা ছিলো ধনী পরিবার। আর সিকদার বংশ ছিলো তুলনামূলক ভাবে গরীব। কিন্তু সিকদার বংশের ছেলে মেয়েরা ছিলো শিক্ষিত ও জ্ঞানি। আর মোল্লা বংশের ছেলে মেয়েরা ছিলো সব জাত ব্যবসায়ী।
একসময় দু'পরিবারের সম্পর্ক ভালো থাকলেও মোল্লারা সিকদার পরিবারের লোকজনদের খুব একটা দাম দিতো না। আরিফ সিকদারের বড় ছেলে শরিফ সিকদার ছিলো গ্রামের হাই স্কুলের শিক্ষক। সেই শরীফকে দেখলে মোল্লার বাড়ির বড় ছেলে তুই তামারি করে কথা বলতো। কোন ইজ্জত দিতো না। এই নিয়ে শরিফ সিকদারের কোন অভিযোগ ছিলো না। কিন্তু শরিফ সিকদারের ছেলে মেয়েরা বিষয়টা ভালো ভাবে নিতে পারতো না।
0 Comments