Subscribe Us

হাসান জামান এর ৩টি কবিতা।

 

এ শহরে ফিরবো না আর 

হাসান জামান 


এ  শহরে ফিরবো না আর নতমুখে 

ফিরবো না বিড়ালের মতো লজ্জা মেখে গায়ে 

চুপিচুপি রাতের আঁধারে নিশ্বব্দ পায়ে 

শুকিয়ে গেছে চোখের জল সীমাহীন কষ্ট ও দুখে! 


এখানে রৌদ্রময় দিনগুলো বড় বিষন্ন একা 

কালো ধোঁয়া ছাড়ে নাকে মুখে ক্লান্ত সকাল 

পুরনো বাসের জ্যামে আটকে যাই, করি ভুল ভাল

দয়া মায়া হীন হর্নের আওয়াজ নেই কারো দেখা!। 


এ শহরে আমার কোন বন্ধু নেই আর! 

যে আমাকে ডাকবে কাছে, বলবে চলো যাই 

 মোড়ের দোকানে এক কাপ চায়ে প্রানটা জুড়াই! 

 জীবনের দুঃখ সকল  ফেরী করি দু' জন বেকার! 


শুনেছি তোমরা নাকি সব কিছু পারো 

সুঁচের ছিদ্র দিয়ে হাতি পার করে দিতে 

 ফুঁ দিয়ে সূর্যের  আলো  নিভিয়ে দিতে 

পারো মানুষের  রক্ত ঘাম সব শুষে নিতে 

তোমাদের ভয়ে  তটস্ত সভ্যতা কাঁপে থরোথরো! 


 শহরের সূর্য ঢেকে আছে ঝাপসা  কুয়াশায় 

উদরে  ক্ষুধার অনল জ্বলে হতাশা ঘরে ঘরে 

দীশাহীন যুবকেরা মরুভূমিতে ছুটে যায়

এক টুকরো রুটির জন্য যুদ্ধ করে পথে প্রান্তরে 


এ শহরে ফিরবো না আর পরাজিত মুখে 

দাঁড়াবোনা মায়ের মুখোমুখি 

রাত্রি কিংবা দিনে ভাঙা মনে  লজ্জাহীন সুখে !!

🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸

দেয়ালে পিঠ 

হাসান জামান 

দেয়ালে পেরেক ঠুকে টাঙ্গিয়েছি সময়ের  ঘড়ি 

হৃদয়ে বিষন্ন বিকেল

 নতুন জীবন কোথা থেকে শুরু করি ? 

সময়ের ঠোঁটে আঙ্গুল রেখে বয়স যখন পঞ্চাশ পেরিয়ে 

মৃত্যু  যখন সোনালী প্রজাপতি হালকা বাতাস 

কি করে যাই এড়িয়ে । 

আজ 

পায়ে চলা সরু পথ  মহাসড়ক থেকে  মহেঞ্জোদাড়ো

রাজপথ ক্রমশ বিস্তৃত হয়ে মিশেেছে দিগন্তে আরো 

পুরাতন জীর্ণ জনপদ সুরম্য বিশাল নগরী 

শুধু জীবন চলার পথ ক্ষীন থেকে ক্ষীনতর,তড়িঘড়ি 

সাড়ে তিন হাত ভূমি,

 দিন শেষে নতুন পৃথিবী  কি দিয়ে যে গড়ি? 


নিস্তব্ধ রাত্রি জেগে আছি নক্ষত্রের পাশে একা 

দৃষ্টিতে নেই উজ্জলতা  বুকে  ঝাপসা আঁধার 

মনের গহীনে ভয়ের মেঘ করে হাহাকার

হিমোগ্লোবিন নিম্নগামী  ঝড়ের সাথে

 হয়তো হবে দেখা! 


কোন মলমে ইবনে সিনা  সারাবে এ আশ্চর্য  ক্ষতো  

হৃদয়ে রক্ত ক্ষরন ফোঁটা ফোঁটা ঝরে অবিরত। 


বেঁচে থাকার সকল সড়কে বিনাশী  অবরোধ। 

ঝড়ের আগুনে বিপন্ন মানুষ,

কে নেয় কার প্রতিশোধ ? 


কালের আঘাত! প্রকৃতি নাকি নিয়তির  দায়? 

ঊর্ধ্বমূখী দ্রব্য মূল্য চেঙ্গিস খান ঘোড়সওয়ার

মৃত্যুঞ্জয়ী  ট্যাবলেট আশা ভরসা রক্ত চুষে খায়। 


১০ নম্বর মহা বিপদ সংকেত।ছেড়ে এ স্বপ্ন ভূমি

সহযোদ্ধা পালাবে কোথায়? স্বপ্ন স্বস্তি তুমি  নির্বাসনে যাও।  শপথ  কারী শহীদ তিতুমীর যার 

সূর্য অস্ত গেছে নদীর ওপারে, 

ভাঙা আজ কেল্লা'র দ্বার! 


হাজার বছর ধরে  নদী ও নারীরা  এখানে গোপনে। 

অশ্রু ফেলেছে মেঘের মেয়ে বালিশে শয়নে স্বপনে। 


হারাবার কিছু নেই নৈতিকতা  বর্জিত  এ সময়ে

তুৃমি এসো নাকো ফিরে এ শহরে এই লোকালয়ে

প্রবেশ করোনা  আমার চৌকাঠে

এখানে বিষন্ন দিন মৃত মাছের মতন রাত কাটে। 


হাঁটু মুড়ে বসে থাকা মানুষের  কান্না মিশে যায় অন্ধকারে গ্যালাক্সির ধুষর ছায়ায়! 

শুধু নফছের খায়েশ পুরনে সবুজ গুল্মলতা 

পুড়েছে তিন-তিনবার চৈত্রের প্রচন্ড খরায়। 


চিকিৎসক   কি করে বাঁচাবে এদেশ এ জাতিকে

নখ দন্তহীন এ বিপন্ন প্রাণীকে ? 

মৃত বাঘ আকণ্ঠ ডুবে আছে ভয়ের  পুকুরে। 

শুষ্ক তিস্তায় কে আনবে দূরন্ত যৌবন উত্তপ্ত দুপুরে। 


প্রিয়তম কসম তোমার  তুমিই বলেছো -

"কষ্টের পরে স্বস্তি রয়েছে,"এই ক্ষনে -

দেয়ালে পিঠ , তবু সেজদায় আমি  

যদি যেতে হয় নির্বাসনে -

বন্ধকী রেখেছি এ হৃদয় শুধু তোমার স্মরণে।। 

🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸

মানুষের ইতি কথা 

হাসান জামান 


মানুষের  সবার নিজস্ব পোশাক আছে মনে

বৃক্ষের মতো। যে যার মতন! প্রত্যেকের রং রুপ

পু্স্প কান্ড পৃথক!  দাঁড়িয়ে থাকি গলির কোণে -

বিলবোর্ডে সুন্দরী নাচে  বৃষ্টি তে ভিজে নিশ্চুপ! 


জীবনের  রঙ্গমঞ্চে  আমরা সবাই আনন্দ ভিখারি!

 একটুকরো স্বপ্ন ধরার জন্য ছুটি সেই শৈশব থেকে 

 ফাস্ট হতে হবে তোমাকে সবখানে, দেখো অনাহারী 

ছেলেটা ও ম্যারাথন রেসে দাড়িয়েছে মোরগের মত ঘাড় বেঁকে! 

ন্যাংড়া কানা কুঁজো সব এ-শহরের বেবাক লোক 

হাঁ করে চেয়ে আছে, হয় সে জিতবে নয় তার ছেলে 

অথবা নিজ দল, এটাই দে-শ প্রেম অন্যায় হয়,হোক! 

উড়ে যেতে হবে সবার আগে সবাইকে পেছনে ফেলে! 


অরণ্য রোদনে লাভ কি গুল্মলতার বৃক্ষ তার প্রাণ! 

চেয়ে দেখি উড়ে যাওয়া পাখির ঝাঁক আর তার গান 

ভেসে যাওয়া মেঘ কতোটা আপন ওরা পাশাপাশি 

চায়ের দোকানে আমরা কজন বন্ধু যখন করি হাসাহাসি! 

পাড়ার সকলে ভাবে ওরা হরিহর আত্মীয় স্বজন

চমৎকার স্বপ্নের মধ্যে বাস কাচের মত স্বচ্ছ মন! 

কথাটি কতটুকু  সত্য পোশাকের আড়ালে -

মানুষ  কতোটা আপন বুঝবে  দুর্দিনে তার কাছে  হাত  বাড়ালে!

🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸

Generated by Embed Youtube Video online




Post a Comment

0 Comments