সকলের তরে ঈশ্বর
____শাহ সাবরিনা মোয়াজ্জেম
ঢাউস সাইজের চিঠি
কেমন অবিশ্বাস্য লুতোপুতো
তা গোচরাভুত হবার আগেই
ছিড়ে কুটিকুটি করে ফেরত খামে পাঠালাম।
শুধালো, বড্ড আত্মপ্রত্যয়ী তুমি—?
দর্শনোচ্ছো নেই বাকি কম্ম সাধন করার
ইচ্ছের সংগতিও নেই—।
হররোজ মিনতি
ঝকঝকে কার্ড
বার বার বিফল মনোরথ।
অলং নেই তবে অহং আছে—।
কাণ্ডারী ঈশ্বর।
দেবার মালিক ফিরতি নেবার মালিক তিনি।
গর্বিত কণ্ঠে উচ্চারিত হয়ে কানে বাজে
মানি আছে বলেই মানিব্যাগ আছে—।
তারমানে আমি হতদরিদ্র?
কথা কিন্তু মিছে নয়।
তাই বলে হতদর্প—!
তাই বলে যত্রতত্র আত্মহুতি—?
তা দেবার মানুষ আমি নই।
মা চেয়েছিলেন একটা মাত্র মেয়ে
ধারে কাছে বিয়ে হোক।
চোখের দেখা দেখতে পাবে।
মা নিজেই পরপারে চলে গেলেন।
অনেকেই ভেবেছে—উচ্ছন্নে যাবে।
সময় বড় ক্ষমাশীল—।
তবে দীর্ঘ তেইশ বছর সুখের বন্যায় ভেসেছি।
এখন টাকা নেই
তাই ঘর হয়নি
দুয়ার হয়েছে—।
মানুষের ভিন্নতা মেপে মেপে
মকসদের সারকথা পরম করুণাময়ের
কাছে বলতে তীর্থ স্থানই যেতে হবে কেনো?
ডাকার ইচ্ছে থাকলে যখন তখন
যেখানে ইচ্ছে সেখানে ডাকা যায়
ভীন্ন অভিন্ন ভাবে—।
ইত্তেহাদে আমি সব সময় সমতার।
চিন্তনীয় দর্শন যা-ই থাকুক
ঈশ্বরের মর্যাদা ভীন্ন
অন্তর থেকে আমি তাকেই ডাকি।
মননসাধ্য নিয়ে আমি তাকেই মানি।
কিছু বলি সর্বকুলের আধারের কথাঃ—
পাথরের ডগায় মেজেণ্ডা আবরণ।
জীবনের গা হলুদাভ।
অল্প পুষ্টির মানুষ কখনো কখনো বর্ণচোরা।
আত্মা কতো কি চায়—সসীম সম্পদে।
গোরের ডাক সমাগত দুঃখদিনের আশ্রয়ে।
হেই হারিয়ে সুখের কাছে দুঃখ পরাজিত।
বোঝার ক্ষমতা থাকলেও
কল্পঘোরের সক্ষমতা নেই অনেকারই।
তাইতো— মুখের উপর না বলার খড়্গ চাপিয়ে দেই—শশি নিবিড় উপগত এই মরমিয়া জগতে।
বিকেলে বৈকল্যের রঙিন বিন্যাস।
কিংবা চিত্রায়িত যৌবনের খেলায়
আমরা পাকা জুয়াড়ি—।
মাসুম খেলায় অবুঝ—নাদান!
মরশুমে মরশুমে গা বাঁচানো ফরজ খেলায়
—অবিশ্বাস্য নৃত্যরত।
আমি বাসি বা আমার পুজোর ফুল বাসি
ভবে কে বলতে পারবে—?
আত্মার কাছে নিয়তির কাছে
আমরা সর্বধা ধরাশায়ী—।
নিগুঢ় তত্ত্বে সাত আসমানে কুরসিতে
যিনি অবগাহন করছেন তিনি স্বয়ং সাক্ষী।
মানুষ ঈশ্বরকে ভয় পায় কম
ভয় পায় সমাজের মানুষকে—।
গদাইলস্করি তুমুল চাল যেদিন চালবেন
তখন ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচার সময় কোথায়!?
রাজরানি পাটরানি কিংবা মস্ত পুরুষ
বাক্স পেটরা নিয়ে অবনত মস্তকে
লেজ গুটিয়ে পালাবে সেদিন—!
❤️❤️❤️❤️❤️❤️❤️❤️❤️❤️❤️❤️


0 Comments