Subscribe Us

সুযোগের অপেক্ষায় (শেষ পর্ব) ____তাজরীন খন্দকার ❤️

 

সুযোগের অপেক্ষায় (শেষ পর্ব) 

____তাজরীন খন্দকার ❤️


---প্রেম করে বেড়াতো মানে,আর তোমার কিসের প্রতিশোধ তাজ??

পেছন থেকে পরাণের কথা শুনে আমি লাফিয়ে উঠলাম। সব শুনে ফেললো তাহলে পরাণ?... 


আমতা আমতা করে আমি রিহানের দিকে তাকালাম। রিহানও ভয় পাচ্ছে সেটা তার মুখ দেখেই বুঝতে পারছি। হয়তো সেও তার ভাইকে জানাতে চায়না তার প্রাক্তন এখন তার ভাইয়েরই বউ হয়েছে।


পরাণ আবারো বললো.. 

--- কি ব্যপার এতক্ষণ তো লজ্জায় কথা বললে না রিহানের সাথে ,  কিন্তু এখন কি সব বলছো? কে প্রেম করে বেড়িয়েছে আর তুমি কিসের শোধ নিবে? কিরে রিহান কি বলছিলি তোরা?


রিহান কিছু একটা বলতে যাবে তখনি আমি বলে উঠলাম..

--- আরে শুনেন রিহান জিজ্ঞাসা করছিলো বিয়ের আগে কারো সাথে প্রেম করেছি কিনা? আমি বললাম আগে আমার সামনে সবাই প্রেম করে বেড়িয়েছে কিন্তু আমি এখন তোমার ভাইকে এতো এতো ভালোবেসে সবকিছুর শোধ পূরণ করবো। 


আমার কথা শুনে পরাণের চোখ খুশিতে চকচক করছে। কিন্তু রিহান রীতিমতো রেগে লাল রঙের জবা হয়ে গেছে।  

আমি এগিয়ে এসে পরাণের হাতের কনুইয়ে দিকে হাত টেনে বললাম..

--- আসেন ছাদের কিনারের এই দেয়ালে উঠে বসি! আপনি আমাকে হাতে শক্ত করে ধরে রাখবেন নাহলে পড়ে যাবো, বুঝেছেন? আসেন আসেন!


রিহান আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে! আমার সাথে এগুতে এগুতে পরাণ রিহানের দিকে তাকালো,সাথে সাথে রিহান দরজার দিকে গিয়ে বললো

--- থাকো তোমরা ভাই। আমি নিচে যাচ্ছি। 


--- আচ্ছা তুই নিচে গিয়ে রেস্ট নে। (পরাণ বলল)


বলেই পরাণ আমার দিকে তাকালো,কিন্তু আমার দৃষ্টি তখনি রিহানের উপরে পড়লো।  সে দুই সিঁড়ি নেমে গিয়েও পেছনের দিকে তাকিয়ে আছে, আমি তাকাতেই সে আমার দিকে লক্ষ্য করে মাথা নাড়িয়ে একটা রাগ ঝেড়ে বুঝালো।  নাক ফুলিয়ে ভ্রু কোচকে চেহেরাটা হুতুম পেঁচা বানিয়ে ফেলেছে পুরো! আমার একবার তাকিয়েই ভয় লাগলো, তাই চোখ ফিরিয়ে পরাণের দিকে তাকিয়ে ওর চুলে হাত বুলিয়ে একটু জোরে জোরেই বললাম..

--- জানেন আপনাকে দেখতে কত্ত ইচ্ছে করছিলো! যেন হাজার বছর ধরে না দেখে আছি! আচ্ছা এতো ভালোবেসে ফেললাম কিভাবে আপনাকে??


তখন হুড়মুড়িয়ে একটা আওয়াজ পেলাম মানে রিহান চলে গেছে। যাক তাহলে গেছে! 


আর পরাণও আমাকে খুব মিস করেছে এই তিনদিন আর সেটা অপ্রকাশ্য নয়। কারণ সে প্রতিদিনই ফোনে বলতো৷ কিন্তু আমি আজকে প্রথম বললাম সেটাও রিহানকে শুনিয়ে,একদম আগুন জ্বালিয়ে! 


আমি জানি রিহান আমার এই অল্প সময়ের কান্ডতেই একদম পোড়ে যাচ্ছে! আর বাকি কতদিন  তো রয়েই গেছে তাকে জ্বলানোর! 


রাতে খাবার সময় পরাণ আর রিহান যখন একসাথে খেতে বসলো তখন আমিও এসে তাদের সাথে বসলাম। কিন্তু দেখলাম সেখানে মাত্র দুটো প্লেট রাখা। পরাণ আমার জন্য অপেক্ষা করছে কিন্তু রিহান অর্ধেক খেয়ে ফেলেছে। আমি এসেই আরেকটা না এনে পরাণের প্লেট হাতে নিয়েই বললাম 

--- আমি আর আপনি একটাতে খাবো। আচ্ছা আমি আপনাকে খাইয়ে দেই? 


তখনই দেখলাম রিহান হাতে তোলা খাবারটা প্লেটে ফেলে আমার দিকে তাকিয়েছে৷ আমি কেয়ার করলাম না সেটাকে। আমি হাত দিয়ে পরাণের মুখে খাবার দিতে যাবো তখনই রিহান চেয়ার টেলে উঠে দাঁড়ালো। আর সেখান থেকে চলে যাওয়ার জন্য উদ্যত হল।  রিহানের এমন কান্ড দেখে পরাণ বললো.. 

--- কিরে খাওয়া শেষ?  চলে যাচ্ছিস কেন?


--- পেট ভরে গেছে ভাই। তুমি খাও আমি ঘুমাবো একটু। 


আমি মুখ চেপে হাসলাম। জোরে হাসা যাবেনা। সব বুঝেও বললাম..

--- রিহান ভাইয়া এমন অদ্ভুত কেন? হুটহাট কি করে বসে। আধা খাবার রেখে চলে গেলো।  আপনি বলেন তো খাবার কি ভালো হয়নি?


পরাণ খাবার চিবাতে চিবাতে বললো .. 

---- অনেক ভালো হয়েছে খাবার। ভাবীর রান্না বলে কথা!  কিন্তু রিহান মনে হয় তোমাদের বাড়িতে নতুন পরিবেশে নিজেকে এখনো মানাতে পারছেনা। আনইজি লাগছে তার৷ সমস্যা নেই বাদ দাও। 


তখন হুট করে খেয়াল করলাম রান্না ঘরের পর্দার আড়ালে ভাবী নিজের মুখে ধরে হাসতে হাসতে ক্লান্ত। 

ভাবীকে দেখে আমারও হাসি থামানো কষ্টকর হয়ে গেলো। ভাবী হয়তো রিহানের কান্ড দেখে হাসছে। কিন্তু সেটা বুঝেও অন্য প্রসঙ্গ টেনে পরাণকে বললাম..

--- দেখেন ভাবী আমাদের দেখছে আর হাসছে! 


এরপর পরাণ ভাবীকে উদ্দেশ্য করে বললো..

--- এরে ভাবী এদিকে আহেন। লুকিয়ে দেখতে হবে কিল্লাই? 


ভাবী তখন হেসে হেসে বললো.. 

--- পরে গল্প করবো এখন কাজ গুছিয়ে আসি। লুকিয়ে এত্তু আসি কারণ মাঝে মাঝে নতুন নতুন প্রেমগুলো দেখতে ইচ্ছে আর কি! তাই একটু উঁকি দেওয়া! 


জিভ বের করে ভেংচি দিয়ে  ভাবী চলে গেলো। এমন অবস্থায় আমরা দুজনই দুজনের দিকে তাকিয়ে একসাথে হেসে উঠলাম! 


এর পরেরদিন সকাল সকালই আমাদের চলে যাওয়ার জন্য রেডি হওয়া শুরু । খাওয়ার পরেই আমরা তিনজন  রওয়ানা দিয়ে দিলাম। 

তিনজনেই পেছনের সিটে বসে আছি,আর ড্রাইভার সামনে একা। আমি আর পরাণ একসাথে আর রিহান একপাশে। 


গাড়িতে উঠেও আমার মাথায় দুষ্ট বুদ্ধি চেপে বসলো। কিছুক্ষণ আগানোর পর আমি ঘুমের ভান করে দুলতে লাগলাম। তখন পরাণ আমার ঘুম পেয়েছে ভেবে মাথাটা নিয়ে তার কাঁধের উপর দিয়ে নিজের একটা হাত দিয়ে আমাকে জড়িয়ে বসে রইলো। এর মধ্যে আমি দুইবার একটু চোখ মিটমিট করে তাকিয়ে দেখলাম রিহান বাইরের দিকে একটা হাত ভর করে তাকিয়ে আছে। 


বুঝতে পারছি সে আমাদের এসবে প্রচন্ড রাগান্বিত। তাতে আমার কি সেও আমার সামনে কতদিন তার নতুন প্রেমিকাকে নিয়ে পুতুপুতু করে বেড়িয়েছে৷ কতদিন তো আমার সামনে ওই মেয়ের সামনে চলে আসা চুল নিজের হাতে ঠিক করে ক্লিপ মেরে দিয়েছে।  এসব চোখের সামনে সহ্য করেছি অনেক। তাই এখন আমার প্রেমও রিহানের সহ্য করার পালা। 


ঘুমের ভান ধরতে গিয়ে সত্যিই ঘুমিয়ে গেছিলাম। হঠাৎই একটা ধাক্কা লাগলো সারা গায়ে। আমি আচমকা কোথাও ধরতে গিয়ে দেখলাম আমি পরাণের বাহুবন্ধনে! তার মানে সে আমাকে গাড়ি থেকে নামানোর চেষ্টা করছিলো আর সেটাও আমাকে না জাগিয়ে! তাকিয়ে দেখলাম আমরা পোঁছে গেছি। আর রিহান গাড়ি থেকে ব্যাগ নামাচ্ছে আর আড় চোখে আমাদের দিকে তাকাচ্ছে৷ 

আমি পরাণকে সরিয়ে বললাম...

--- আমার ঘুম ভেঙে গেছে,আমি যেতে পারবো এখন। 


পরাণ আর আমি হাত ধরে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করলাম। দুজন রুমের দিকে যাবো তখনি আমি দেখলাম প্রচন্ড আওয়াজ করে রিহান নিজের রুমের দরজা বন্ধ করে ভেতরে গেলো। 

পরাণ বলে উঠলো..

--- কি হলো? 


আমি তো জানিই তার খুব রাগ,তাই এখানে এসে এসব উজাড় করার চেষ্টা করছে। তাই পরাণকে বললাম..

--- মনে হয় ভুলবশত জোরে আওয়াজ হয়েছে। 


পরাণ মাথা নাড়লো। আমরা রুমে চলে গেলাম। তারপর সারাদিন গেল, রাত গেলো রিহানকে আর দেখতে পাইনি। পরেরদিন একদম ভোর সকালে আমি বারান্দায় ফুল গাছগুলোর উপর হাত বুলাচ্ছি, হালকা বৃষ্টি হচ্ছে বাইরে। সকালের বাতাসটা কেমন জানি তখন হিম হিম লাগছিলো। 

প্রাকৃতিক এই মন ছোঁয়ানো পরিস্থিতিটায় হঠাৎই আমি চমকে উঠলাম অপর পাশের বারান্দায় তাকিয়ে। 


রিহান আমার দিকে তাকিয়ে আছে। তাকিয়ে আছে মানে একদম একনাগাড়ে তাকিয়ে আছে পলকবিহীন। হুট করে মাথায় আসলো আরেহ আমি তো আজ নীল শাড়ী পরেছি, যেটা রিহানের সবচেয়ে প্রিয় এবং ভালো লাগা। বলতে গেলে দূর্বলতা। 

আমাদের যখন রিলেশন ছিল তার একটাই বাসনা ছিলো, তাজ তোমাকে আমি কখনো নীল শাড়িতে দেখতে পাবো? এমনকি সে বলতো আমাদের কখনো বিয়ে হলে সেসময়ও সে প্রথম শাড়ীটাই তোমাকে নীল রঙের কিনে দিবে। 


একটা সম্পর্ক তৈরি হলে সেখানে অনেক স্মৃতিই থাকে,যেটা সেই প্রিয় মানুষটার অনুপস্থিতিতে ভুলে যাওয়া যায়। তবে তার যদি আবারো উপস্থিতি কিংবা কোনো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় তখন পুরনো স্মৃতি আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। 

রিহান বলতো আমাদের বাড়ির পূর্ব দিকে বারান্দা, তাই বিয়ের পরে প্রতিটি সকালে আমরা দুজন একসাথে বসে সূর্য উদয় দেখবো! 

হয়তো এসব কথা একসময় ভুলে গিয়েছিলো বলেই সে আমাকে ছেড়ে নতুনত্বে মেতে উঠতে পেরেছে। 

রিহানের দিক হতে অন্য দিকে ফিরে এসব ভাবছি তখন হুট করেই পরাণ এসে আমার চোখ হাত দিয়ে ধরে ফেললো। আমি হেসে বললাম..


--- এই যে জনাব,আমি জানি আপনি আমার পরাণ!লুকোচুরি করতে হবে না। 


বলেই হাত ছাড়িয়ে পেছনে তাকালাম। খেয়াল করলাম রিহান চলে গেছে ততক্ষণে। পরাণকে দেখেই হয়তো চলে গেছে৷ রিহানের এসব আচরণে আমার কেন জানি পুরনো সেই কষ্টগুলো মনে হয়। আমি এমন কোনো দিন নেই কান্না করতাম না৷ 

একটু একটু করে সে আমার ভেতরটা একদম পুড়িয়ে ফেলেছিলো। এখন তার এই করুণ অবস্থায়ও আমার আনন্দ পাওয়াটা স্বাভাবিক! 


রিহান ছুটিতে এসেছিল প্রায় এক সপ্তাহের কিন্তু আমার শাশুড়ীর মুখে শুনলাম তার নাকি জরুরি কাজ পড়ে গেছে তাই দুইএকদিনেও মধ্যে চলে যাবে। 

এদিকে পরাণেরও ছুটি শেষ হয়ে আসছে৷ 


বিকেল বেলা ঘরে নেটওয়ার্ক পাচ্ছিলাম না,তাই  বাড়ির সামনেই পুকুর পাড়ের দিকে গেলাম। 

কথা শেষ করে ঘুরে তাকাতেই দেখি রিহান। 

আমি তাকে পাশ কাটিয়ে চলে যাবো তখন রিহান বললো.. 

--- প্লিজ তুমি আমাকে মাফ করে দাও। তোমায় আমি বিনীত অনুরোধ করছি আমাকে তুমি একটু শান্তিতে থাকতে দাও৷ 


--- আরে আরে আমি কি করলাম?


--- বইন আমার আর সহ্য হচ্ছেনা। সরি ভাবী! প্লিজ আমার সামনে আর প্রেম পিরিতি দেখাইয়ো না। 


---কেন ভাইয়া? আপনি যখন করতেন আমি কি আপনাকে কম বুঝাতে চেয়েছি আর কম কষ্ট পেয়েছি?


রিহান একটু নিরব থেকে শান্ত গলায় বলল.. 


--- তাজ আমি সরি! এখন বুঝতে পেরেছি সব! একসময়ের হাজার স্বপ্ন ঘেরা মানুষটা যতই ঘৃণার হোক,কিন্তু চোখের সামনে অন্য কারো সাথে তাকে মানা যায়না। 

তখন আমি খুব বড় রকমের অন্যায় করেছি তোমার সাথে! প্লিজ মাফ করো, এমনিতে যাই হোক অন্তত আমার সামনে তুমি ভাইয়ার কাছাকাছি যেও না। 


--- এতদিন পর হলেও বুঝতে পেরেছেন তবে? কিন্তু আপনি তো আমাকে দুই বছর জ্বলিয়েছেন,আপনাকে কম পক্ষে চারবছর জ্বলাতে না পারলে কিভাবে হবে বলেনতো?


---শুনো… তুমি হয়তো জানোনা তোমার দেখা সেই দুই বছর পরেই আমার পরের সম্পর্কটার ইতি টেনেছিল। তুমি তোহ আমার প্রথম প্রেম ছিলে! অজানা একটা কারণে তোমার প্রতি অনিহার জন্ম হয়েছিল। 

কিন্তু এরপর যখন নিজে ধাক্কা খেলাম তখন কেন জানি অনুশোচনা হয়েছিল তোমাকে হারানোর! বিশ্বাস করো আমি তখন যতটা মিস তোমায় করেছি তার এক তৃতীয়াংশও পরেরজনের জন্য করিনি কারণ আমি যেমন তোমাকে রেখে আরেকজনের হাত ধরেছি সেও আমাকে ছেড়ে অন্যজনের হাত ধরে চলে গেছে। অথচ তুমি এরপর থেকে একাই ছিলে।তখন আমি বুঝেছিলাম এমন কাউকে কিভাবে ছেড়ে দিলাম?

মনে হয়েছিল খুব ভুল করেছি জীবনে, আর সত্যিই ভুল করেছিলাম তাইতো এতো বড় সাজা পেতে হচ্ছে। 


রিহানের প্রতিউত্তরে বললাম..

--- হ্যাঁ রিহান! একসময়ের প্রিয়জনের সামনে আর যাই হোক অন্য কারোর হয়ে  যাওয়াটা মানা যায়না।

তবে যে অন্য সঙ্গী পেয়ে যায় সে বুঝেনা একাকিত্বে ভোগা অপর মানুষটার যন্ত্রণা, যেমনটা আমিও বুঝতে পারছি না এখন আর। 

আর এখন সেটা তোমাকে বুঝাতে পেরে নিজেকে সার্থক মনে হচ্ছে। এসব ব্যপার না! বাদ দাও সবকিছু। 

তুমি লাল টুকটুকে একটা মেয়ে দেখে বিয়ে করো সব ঠিক হয়ে যাবে। আর আমি এখন তোমার ভাইয়াকে খুউউউউব ভালোবাসি! তাই তুমি বিয়ে করলে আমার খারাপ লাগার কোনো অপশন নেই। 


বলেই হেসে উঠলাম। রিহান না চাওয়া সত্ত্বেও হাসার চেষ্টা করলো। 

আমি এক পা বাড়িয়ে চলে যাবো তখনি আবার ফিরে তাকিয়ে বললাম..

--- আমাদের অতীত আজ আর এখান পর্যন্তই থেমে যাক। কেউ না জানুক কোনোকিছু। তোমার ভাইয়া আমাকে খুব বিশ্বাস করে। এরপর যেন এমন কিছু না হয় যার জন্য আমার ভালোবাসা এবং তুমি তোমার ভাইয়ের বিশ্বাস হারাও! আসি রিহান! 


বলেই ঘরের দিকে হাঁটলাম। রিহান কোনো শব্দ করলো না।  বুঝতে পারছিলাম সে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। থাকুক তাকিয়ে!

 

আমার জীবনের খুব বড় একটা কষ্ট যেন আজ হালকা অনূভব হচ্ছে। মনে হচ্ছে প্রতিশোধ যেন পরিস্থিতির কাছে হেরে গেছে। প্রতিশোধের কোনো রকম সুযোগের অপেক্ষায় থাকার আর দরকার নেই। কারণ সে এখন নিজের ভুল বুঝতে পেরেছে। বুঝতে পেরেছে কাউকে ঠকানোর ফল কখনোই ভালো হয়না। সেটা ফিরে পেতে হয় কোনো না কোনোভাবে!

কিংবা খুব মারাত্মক পরিসরে! 


(সমাপ্ত)

Post a Comment

0 Comments