Subscribe Us

ছোট প্রবন্ধ || মোস্তফা তোফায়েল হোসেন

 


'আমার গরিবের যাতে কোনো কষ্ট না হয়!'

---------মোস্তফা তোফায়েল হোসেন    


বঙ্গবন্ধু তাঁর ৭ই মার্চের ভাষণে খুব জোর দিয়েই বলেছিলেন, "আমার গরিবের যাতে কোনো কষ্ট না হয়!"

তাঁর কণ্ঠনিঃসৃত "আমার গরিবের" শব্দমালার ব্যঞ্জনা সবচেয়ে বেশি কানে বেজেছিল যাদের, সেই গরিব মানুষেরা এখনও বেঁচে আছেন অনেকেই; কেউ কেউ মারা গেছেন ১৯৭১-এর সম্মুখযুদ্ধে।

অনেককেই রংপুর-বদরগণ্জ রোডের পার্শ্ববর্তী (বালাইরখাল) মসজিদে  শুক্রবারের প্রার্থনারত অবস্থায় গুলি করে হত্যা করেছিল পাকিস্তানি সৈন্যরা; একযোগে দশ হাজার গরিব মানুষকে মেশিনগানের ব্রাশফায়ারে, মাত্র এক ঘন্টার মধ্যেই হত্যা করেছিল পাকিস্তানিরা, যশোর রোডের পার্শ্ববর্তী চুকনগরে।

আরো বহু গরিবের মৃত্যু ঘটে গিয়েছে; 

আরো অনেক গরিবের পুত্রের মৃত্যু ঘটে গিয়েছে;

আরো অনেক গরিবের কন্যাদের অপমান ও আত্মবিসর্জন ঘটে গিয়েছে;

আরো অনেক গরিব পৌত্র ও দৌহিত্র, কন্যা ও দৌহিত্রী এখন 'সস্তা' শ্রমে অ্যারাবিয়ান পেনিন্সুয়ালায় প্রতিদিন মৃত্যুবরণ করে চলেছেন।

আরো অনেক গরিব তৈরি হচ্ছেন, গরিব ঘর থেকে গরিব নাগরিক, গরিব ভোটদাতা জন্ম নিচ্ছেন যারা আগামী দিনগুলোতে গরিব অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবেন।


এবং, আসিতেছেন! আসিতেছেন নতুন কোনো ড. ইউনুস, নতুন কোনো গরিব শ্রেণীর মানুষের জন্য নতুন কোনো 'ছাগল পালন ঋণে'র মহত্তর ও চমত্কার কোনো 

প্যাকেজ নিয়ে, যাতে করে ছাগলপালক গরিবেরা ও গরিব ছাগলেরা পালাক্রমে গরিব থেকে গরিবতর অবস্থা অভিমুখে ধাবিত হবে অর্থনীতির বহমান ধারাবাহিকতায়, বিপুল স্বাভাবিকতায়। মানুষ মরণশীল জীব বটে!


১৭ ই মার্চ, আসছে শুক্রবার। 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিবস।

তাঁর জীবনের সর্বশেষ বক্তৃতাটি ছিল ২১ জুলাই ১৯৭৫ তারিখে, যে-বক্তৃতায় তিনি গরিবদের অর্থনৈতিক মুক্তি ও সামাজিক মর্যাদার কথা আরো অধিক জোর দিয়ে বলে গেছেন; নীতিমালা ঘোষণা করেছেন সরকার প্রধানের অবস্থান থেকে। 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বেঁচে থাকলে আজ আমাদের দেশের গরিব মানুষের অর্থনৈতিক ও  সামাজিক মুক্তি আসতোই। তাঁর আত্মোত্সর্গী জীবনাদর্শ থেকে এমন প্রত্যয় আমরা অনুমান করতে পারি। কিন্তু তাঁকে বাঁচতে দেয়া হয়নি।


এখন আমরা কি আরেকবার বলতে পারি না--"আমাদের দেশের গরিবের যাতে কোনো কষ্ট না হয়!"

⬅️➡️⬅️➡️⬅️➡️⬅️⬅️➡️⬅️➡️⬅️➡️⬅️➡️⬅️➡️

আপনার লেখা প্রকাশ করতে চাইলে কমেন্টে জমা দিন অথবা ক্লিক করুন :

নতুন কবিতা জমা 

প্রতি মাসে একজন সেরা কবিকে সম্মাননা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যে কবিতাটি মাস শেষে সর্বোচ্চ পাঠক প্রিয়তা অর্জন করবে সেই কবিতার কবিকে সম্মাননা দেয়া হবে।  


Post a Comment

0 Comments