সর্বেশ্বর ছিলে তুমি
———— মঞ্জুর আলম সেলিম
কার প্রয়োজনে তোমার আগমন,
কার প্রয়োজনে তোমার বিদায় পরিক্রমণ।
তুমি পরাক্রম নও,
তোমার চেয়ে নেবার এখতিয়ার নেই,
তুমি চেয়ে নাওনি তোমার জনম।
জন্ম মাত্রই তোমার ইচ্ছা কিংবা অনিচ্ছা
উচ্ছাস কিংবা ক্ষোভ তোমায় ছোঁয়নি,
তোমার মধ্যে হুঁশ কিংবা বেহুঁশের বালাই ছিলনা।
আমাদের যে নামে ডাকে
সে নামেই তুমি
মানব অথবা মানবী।
ছিল, শুধু প্রকৃতির নিয়ম।
অবস্থান্তর ক্রান্তিলগ্ন অনুভব করতে দেয়নি
তোমার জনমের সার্থকতা,
তোমার মৃত্যুও তোমায় সব অনুভব
থেকে করবে বঞ্চিত, নিয়মটা সহজাত।
জন্ম মাত্রই তুমি জানো কাঁদতে,
নিষ্কলুষ হাসি হাসতে।
কেন হাসতে কিংবা কেন কাঁদতে?
জানা ছিলনা তোমার।
তবে তুমি কাঁদতে, কখনও হাসতে!
দুঃখে, কষ্টে, অতি সুখেও কাঁদে মানুষগুলো,
সুখে, আনন্দে, অতি কষ্টেও হাসে।
তোমার হাসি আর কান্নার অর্থ
হতে পারে শুধুই মানিয়ে নিতে না পারা,
কিংবা অতি অধিক মানিয়ে নেয়া শরীর।
তুমি উপুড় হলে, হামাগুড়ি দিলে,
হিসেব নিকেশ জানা দুটো আঙ্গুলে ভর করে
হঠাৎ অবাক করে দাঁড়িয়ে গেলে!
তুমি হাঁটি হাঁটি পা পা করে দৌড়লে,
শৈশব থেকে কৈশর,
কৈশর থেকে যৌবনে,
যৌবন থেকে পৌঢ়ত্বে পৌছে গেলে!
হঠাৎ, তুমি অন্তরীণ হলে!
তুমি ছিলে অথচ তুমি নেই!
তোমার দাবীতে তুমি আসনি এ ধরায়,
তোমার ইচ্ছা অনিচ্ছার কোন অবকাশ ছিলনা
তোমার বিদায়ে!
যতটুকু সময় তুমি ছিলে,
হিসেব নিকেশ শেখা অতঃপর যতটুকু সময়
ততটুকু সময় সর্বেশ্বর ছিলে তুমি তোমার ইচ্ছা-অনিচ্ছার।
তুমি ভুলেই গিয়েছিলে,
তোমার সকল সামর্থ তোমার ক্ষয়িষ্ণু ক্ষয়ের বদৌলতে,
প্রতিটি ক্ষণের ক্ষয় গন্তব্য অভিমুখী।
সামর্থই বিভ্রান্তি তৈরী করে কখনও,
কখনও বোধে ক্ষণের স্থিতাবস্থা চর্চিত হয় আত্মগরিমায়।
অথচ তা হবার নয়!
প্রচ্ছন্ন আবন্টিত ক্ষণের ক্ষয়ে তোমার দাঁড়িয়ে দৌড়ানো।
দম্ভের কিছু নেই,
বিধান শুধুই ক্ষণের ক্ষয়।
মোমের সলতেতে কেউবা আগুন ফুঁকে দেয়,
অগ্নিশিখায় উদ্বেলিত হয় যৌবন,
অথচ প্রজ্বলিত মোমের লব্ধ সামর্থ, সবটাই ক্ষয়ে ক্ষয়ে!
মেলে অনেক, নিজেরে ঈশ্বর মনে হয়,
বিনিময়ে অগোচরে হারায় বরাদ্দ ক্ষণ।
কার প্রয়োজনে তোমার আমার আগমন,
কোন হেতু আমাদের বিদায়ের পার্বণ,
কার প্রয়োজনে দাম্ভিক কর্ষণে তুমি আমি বিভোর,
কার প্রয়োজনে প্রজন্মের বিস্মৃতির কৃষ্ণ গহ্বর!
🍁💢🍁💢🍁💢🍁💢🍁💢🍁💢🍁💢🍁

0 Comments