আমি পাঞ্চালী বলছি।
___ নন্দ কিশোর সাহা
আমিই প্রথম প্রতিবাদ করেছিলাম,
নারী পণ্য সামগ্রী নয়, নয় ব্যক্তিগত সম্পদ,
রাজ সভায় অধিষ্ঠিত মহামহীম ভীষ্মদেব নীরব,
আপনারা তাকে আখ্যায়িত করেন জীবিত বসু বলে,
প্রজ্ঞাবান বিদুরও দেখেছেন কূলবধূর সভ্রমহানীর দৃশ্য।
উপস্থিত ছিলেন অহংকারী বীর,
দাতা সূতপুত্র কর্ণ, সত্যবাদী যুধিষ্ঠির ছিলেন-
অবনত মস্তকে, অসহায় জায়া লাঞ্ছিত সম্মূখে,
বস্ত্র সম্বরণের কী প্রাণান্ত চেষ্টায়, দুঃশাষণের অট্টহাসি,
কী নিদারুণ দৃশ্য! কী দুর্গম পথে আমি হেঁটে এসেছি?
আমি অগ্নি কন্যা পাঞ্চালী যজ্ঞোদ্ভুত,
বিদুষী, শ্যামাঙ্গী, কুরুক্ষেত্রের ধ্বংসের বীজ,
খেলার সামগ্রী হয়ে নিয়তির পরিহাসে পঞ্চভোগ্যা,
ভরত বংশীয় রাজবধূ, সৈরিন্ধী, বীরাঙ্গনা, রূপবতী,
পুরুষের লালসার অগ্নি, পাশার বাজি বস্তু, অনন্য সতী
আমার জীবন জুড়ে কতো হীন পরীক্ষা, অশেষ দুর্গতি।
আমি শ্রীকৃষ্ণের প্রিয় সখী কৃষ্ণা,
পাঞ্চাল রাজ কন্যা খ্যাত যাজ্ঞসেনী,
অর্জুনের তীক্ষ্ণ তূণে, ভীমের কঠোর বজ্রে,
দুর্যোধনের লিপ্সায় যুগোত্তীর্ণ এক বনচারী,
স্বর্গের ঘণ্টা বাজে রন্ধনে, কর্মে পটিয়সী নারী,
আমিই প্রথম প্রতিবাদ হয়ে আছি আজও যুগান্তরে,
কীচকেরা বধ হয় আমার লাগি আছি মানুষের অন্তরে।
🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁🍁





0 Comments