বৃদ্ধ নিবাস
মো: গোলাম রসুল
রঙিন মনে স্বপ্ন বুনে সুখের আশা নিয়ে
বয়স যখন আঠাশ তখন করলাম বিয়ে।
বিয়ে হলো মেঘনা পাড়ের মেয়ের সনে
সুখের ক্ষণে হিম পবনে জুমার দিনে।
বছর দুইয়েক পরে শুভক্ষণে রসাল দিনে
ঘরের কোণে আসল খুশি আপন মনে।
ধীরে ধীরে আরও খুশি আসলো ঘরে
বয়স তখন আস্তে আস্তে পঁয়ত্রিশ ছাড়ে।
দিনযায় হাওয়ায় উড়ে সকাল সন্ধ্যা কামাই করে
দিন শুরু পান্তা দিয়ে খুশির ঢেউ আসে ঘরে।
স্বামী স্ত্রী দুই জন মিলে বাচ্চা লালন হেলে দুলে
সুখের সংসার ভালো চলে দুখের কথা ভুলে।
সন্তান বড় হলো বিয়ে শাদী তাদের হলো
তারা সবাই আপন সংসার বুঝতে পারলো।
বাবা মায়ের সুখের কথা সন্তান সব যায় ভুলে
সুখের আশায় গুড়ে বালি বৃদ্ধ কয় হাত তুলে।
ভাত দেয়না বউমা, খেতে আহা! পেটটি ভরে
ক্ষুধার জ্বালা বড় জ্বালা সহে কেমন করে?
বৃদ্ধ একদিন কহে কুর্নিশ করে, মাগো আর পারি না
সইতে আমি , পেট ভরে এমন ভাত দেওয়া কি যায় না?
বউমা তাহে কহে বাঁদরের ন্যায় ভেঙচি দিয়ে
বাথরুম ভরে ফেলেছ বুড়ো অধিক ভাত খেয়ে।
আসুক তোমার ছেলে মজা বুঝাবো আচ্ছা করে
আমার সাথে ঝগড়া ঝাঁটি? বলবো আমি তারে।
ঘরের কোণে চোখের জলে বুক ভাসিয়ে বলে
স্বামী ধন আর পারি না সইতে দূর কর ছলে
বাপজান তোমার, সারাদিনমান শুধু খাই খাই করে
সকাল বেলা অফিস গিয়ে আস সন্ধ্যায় ফিরে
এরই মাঝে কত ঘটন বুঝাই কেমন করে?
স্ত্রীর কথা প্রাণ দিয়ে শুনে ছেলে কহে বউ
ঊষার রবি উদয় হোক, নিপাত হবে দু:খ ঢেউ।
শুনে স্বামীর কথা স্ত্রীর মুখে হাসির ছটা
সকাল হলে পাবে দেখা সদ্য গোলাপ ফোঁটা।
মা বাবার সংসারে সুখের পাখি গেল উড়ে
পিতা মাতা কেঁদে মরে দুখের বালু চরে।
একদিন ঘটা করে ছেলে বউমা বলে ওরে
মা বাবা তোর থাকলে ঘরে আমি যাবো ছেড়ে।
হাসি মুখে ছেলে বলে, ওহে মাতা পিতা
মনে প্রানে শুনো, দিতে চাই না মনে ব্যাথা,
কেমনে বলি, মোদের ঘিরে আছে যত সমস্যা
তোমরা যদি শুনো, মিটবে মনের শত আশা।
পিতা মাতা কহে বাপজান, বল কি সে কথা?
সারাজীবন তোমার সুখের লাগি পাইনি ব্যাথা।
বৃদ্ধ লাঠিতে দিয়ে ভর কাঁপে থর থর, কহে
চুল মোর পাকে নাই বাতাসে? বুঝি তোদের আভাস
যাচ্ছি বৃদ্ধ নিবাস, ছেড়ে নিজের গড়া আবাস।
নতুন কবিতা প্রকাশ করতে আগ্রহী হলে এই পোষ্টের কমেন্টে জমা দিন। অথবা ক্লিক করুন:


0 Comments