একটি লেবু বাগান।(ফিলিস্তিন)
____অরন্য হাসান দেলোয়ার।
আমার একটি লেবু বাগান ছিলো,যা আমার বাবা তৈরি করেছিলেন।
আমি সেই বাগানের লেবু গাছগুলোর সাথে খেলা করেই বড় হয়েছি,আমার শৈশব,কৈশোর সব কিছুর সাক্ষি এই লেবু বাগান।
গাছগুলো অনেক যত্ন করে বড় করা হয়েছে।
প্রতিটি লেবু ছিলো ভীষণ সুস্বাদু।
এক একটি লেবু গাছ একটি সন্তানের মতো
আমার বাবার মৃত্যুর পর আমি এগুলোর সাথেই আমার জীবন ভাগ করে নিয়েছিলাম।
যদিও ইসরায়েলের নির্যাতনের ভিতর দিয়েই আমাদের যেতে হয়েছিলো,এখনো হচ্ছে।
তারপরও এই লেবু বাগান আমার জন্য বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন ছিলো।
কিন্তু ফিলিস্তিনিদের জন্য সুখ বেশিদিন থাকে না।
ইসরায়েলের ডিফেন্স মিনিস্টার আমার বাগানের পাশেই বাড়ি নির্মাণ করে থাকতে শুরু করেন।
তার নিরাপত্তার জন্য আমার লেবু বাগান হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে,
এমন অবাস্তব অভিযোগে আমার লেবু বাগান কেটে ফেলতে বলে।
কি করে কেটে ফেলি এই গাছগুলো?
কোন মা কি তার সন্তানকে হত্যা করতে পারে?
আমিও পারবো না।
আমি ইসরায়েলের ডিফেন্স মিনিস্টারের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে দেই।
আমার লেবু বাগান কারো জন্য কখনোই হুমকি ছিলো না,আগামীতেও হবে না।
অনেক যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায় দেন
অর্ধেক লেবু বাগান কেটে ফেলতে হবে।
আমার বুকের ভিতরটা ভেঙ্গেচুরে যায়
লোনা জলে ভিঁজে যায় আমার চোখ।
ফিলিস্তিনিরা জীবিত অবস্থায় পৃথিবীর কোন আদালতেই ন্যায় বিচার পাবে না,
কখনোই না।আমিও পাইনি।
এরপর আমার সজীব জীবন্ত গাছগুলো কেটে ফেলা হয়।
আমি তাকিয়ে থাকি লেবু গাছ শূণ্য মাঠের দিকে।
ফিলিস্তিনি শিশুদের মতো আমার লেবু গাছগুলোকেও
হত্যা করা হয় নির্মম ভাবে।
সবকিছুরই শেষ আছে,ইসরায়েলেরও শেষ আসবে।
©Aranna Hasan Delwar.

0 Comments