একটি চিঠি(প্রিয়তমা)
____অরন্য হাসান দেলোয়ার।
শহর ছেড়ে যেতে ইচ্ছে করে।কিন্তু কোথায় যাই বলো? এই শহর ছাড়া আর কোথাও আমার কোন থাকার জায়গা নেই।
এই শহরে আমি ভীষণ ক্লান্ত
চারদিকে এতো হৈ চৈ আর এতো জঞ্জাল
আমাকে ভীষণ পিড়া দেয়।
রাতে ঘুমতে পারি না,দিনে বাইরে বের হতে ভয় হয়।
প্রিয়তমা,আমি একদিন কোথাও চলে যাবো
অনেক দূরে। ভয় পেও না,তুমি জানতে পারবে।
আমার তুমি ছাড়া যে আর কেহ নাই।
উঁচু উঁচু চাকচিক্যময় মসজিদের নিচে ক্ষুধার্ত মুখ
ভিক্ষার হাত পেতে দাঁড়িয়ে থাকা বৃদ্ধ
ক্ষমতার লড়াইয়ে নিহত নিরীহ কোন এক মায়ের একমাত্র অবলম্বন।
গাড়ির চাকার নিচে পিষে যাচ্ছে কোন এক বাবার
সুন্দর ভবিষ্যৎ তার বুকের মানিক,
নরপিশাচের নখে ক্ষত-বিক্ষত কোন এক ভাইয়ের আদরের বোন।
শহর আর শহর নেই,যেন এক সাক্ষাত মৃত্যুপুরী।
প্রিয়তমা,এমন এক মৃত্যুপুরীতে কার থাকতে ভালো লাগে বলো?
মৃত্যুকে আজ ভীষণ রকম সুন্দর মনে হচ্ছে।
যদি মরে যেতে পারতাম,তাহলে সবকিছু থেকে মুক্ত হয়ে যেতাম।
তোমাকে একবার দেখতে ইচ্ছে করছে
ইচ্ছে করছে কোথাও হারিয়ে যাবার আগে
তোমার কোলে মাথা রেখে ঘুমাবো কিছুক্ষণ।
হতে পারে এটাই আমার শেষ ঘুম তোমার কোলে
হতে পারে এটাই আমার শেষ স্পর্শ।
এতো মৃত্যু শহর জুড়ে আমি আর সইতে পারছি না।
ভীষণ কষ্ট হচ্ছে,দম বন্ধ হয়ে আসছে আমার।
তোমাকে একটা প্রেমের চিঠি লিখতে চাচ্ছিলাম
মনের কিছু জমানো কথা লিখতে চেয়েছিলাম তোমাকে
যখনই কলম ধরি,তখনই কেন যেন বিষাদে মন ভরে উঠে।
প্রিয়তমা,তুমি ছাড়া কেউ নেই আমার।
তাই আমার সকল যন্ত্রণা আমি তোমাকে বলি।
রাগ করো না প্রিয়তমা। আজ আর কিছু লিখতে ইচ্ছে করছে না।
অন্য কোনদিন তোমার জন্য লিখবো। ভালোবাসা নিও।
©Aranna Hasan Delwar.

0 Comments