প্রার্থনা,,
সুরাইয়া সুলতানা
আল্লাহর দান আমাদের প্রাণ
প্রিয় নবীর উম্মত
সৃষ্টির সেরা মানুষ আমরা
আছে অফুরান নিয়ামত।
ভুলে এই সত্য মানুষ খোঁজে অমরত্ব
করে মিথ্যা ক্ষমতার বড়াই
নশ্বর এই পৃথিবী ধ্বংস হবে সবি
ছেড়ে যাবে পৃথিবী সবাই।
বিভেদ বৈষম্যের দেয়াল সৃষ্টি মানুষের খেয়াল
মৃত্যুর পর সবার ঠিকানা কবর
জেনে বুঝে করি পাপ নেই মনে তবু অনুতাপ
প্রার্থনায় নত হয় না অন্তর।
কত দুর্যোগ আসে কাঁপে না হৃদয় ত্রাসে
মানুষে মানুষে কত হানাহানি
কোনকিছুই স্থায়ী নয় কেনো হৃদয় এতো নির্দয়!
মানুষ ভুলেছে শান্তির বাণী।
প্রীতি ও প্রেমের পূণ্য বাঁধন নেই মানুষের মাঝে এখন
পৃথিবী যেনো এক অশান্তপুর
পাপের পথ ছেড়ে যদি মানুষ আসে ফিরে
ধরণী উঠবে গেয়ে এক নতুন সুর।
-------
আরও পড়ুন কবিতা : তোমাতে বিলীন আমি
-------অন্তরালে,,
-----সুরাইয়া সুলতানা
তোমাকে এখন আর খুঁজি না,
খুঁজি না এখন হৃদয়ের শব্দহীন জ্যোৎস্নার ভিতর, যেখানে নীলাভ অন্ধকারে স্মৃতিরা নৈঃশব্দ্যের সাথে করে নিশ্চুপ আলাপন।
জীবনের টুকরো টুকরো সাধের ব্যর্থতা আর অন্ধকারে নিমজ্জিত এখন আমার সন্মুখ পথ,
একসময় এ বুকের প্রান্তর ছিলো ভরপুর, তোমার প্রেরণার দিগন্ত প্লাবিত অফুরান রৌদ্রের আঘ্রাণে,
আজ যেনো জীবনকে ঘিরে রাখে অজানা কোন কুহেলি আঁধার,
পরাজিত সৈনিকের মতো অজস্র গ্লানি, স্মৃতিরা জড়িয়ে রাখে জীবনের নাগপাশ।
ভাবনার অন্তরালে লুকিয়ে থাকে ফেলে আসা দিনের সাতকাহন,মেঘে ঢাকা সূর্যের মতোন,
আঁধির আড়ালে ঢাকা পরে গেছে আমার মুঠো মুঠো স্বপ্ন,সমস্ত কামনা বাসনাগুলো আজ অস্পৃশ্য,
প্রাণোচ্ছল জীবন্ত স্বত্বা যেনো ধীরে ধীরে প্রাচীন কোন পাষাণ প্রাচীর, গায়ে যার স্মৃতির শ্যাওলায় বিষন্ন সবুজের আস্তরণ।
পরিচিত চেনা বলয়ের গণ্ডি পেড়িয়ে যে দূর্ভেদ্য দুরত্বে হারিয়ে গেছো আত্নার অন্তনীলে,
কোথায় খুঁজবো তোমায়?
দূর দিগন্তের ওপাড়ে,ঘোর তমসায় নাকি পোতাশ্রয়ের কোন বালুকাবেলায়?
মনের সীমানায় আজ শুধুই শূন্যতা.....
অমাবস্যাও তো শেষ হয়,বাঁকা চাঁদের প্রত্যাশায় বিভোর থাকে আকাশ,আঁধারে নিমগ্ন মন না হয় রইলো উন্মুখ..
ভালোলাগার ধ্রুপদী সুর হয়ে ফিরবে না হয় অনন্ত আলোর বন্যা হয়ে, যেমন দিন ফিরে আসে ঠিক রাতের গভীরে।
-------
আরও পড়ুন কবিতা : কবিতা'য় প্রেম
চিরদিনের শ্লোগান,,
সুরাইয়া সুলতানা।
------------------------
জীবন মরণের দ্রোহে তুমুল সংঘর্ষ
যাপিত জীবনের সবথেকে নিশ্চিত দাবীতে বদ্ধ পরিকর, মুষ্টিবদ্ধ দৃঢ় প্রতিজ্ঞায় উদ্ধত হয়েছিলো কয়েকটি হাত।
মুখের ভাষার চেয়ে দামী আর কিছু আছে বলে মনে হয় নি তখন।
নির্দ্ধিধায় জীবন দেয়া যায়,
মৃত্যু তখন তুচ্ছ, চেতনার কাছে,নিজস্ব মাতৃভাষার কাছে।
অসংখ্য মানুষের ভীড়ে আত্নবিশ্বাস নিয়ে, হৃদয়ের গভীর ভালোবাসা নিয়ে, দেশের মানুষের সাবলীল কথা বলা নিয়ে,
মায়ের ভাষার সন্মান নিয়ে আর বিশাল ত্যগী মন নিয়ে,
এগিয়ে এসেছিলো কিছু যুবক।
চন্দ্রাহত চাঁদের জোছনা যেমন মুহূর্তে হারিয়ে যায়
দৈনন্দিন জীবনের স্বপ্নভরা চোখের স্বপ্নগুলো মুহূর্তে নিভে গিয়েছিলো, ঐক্যবদ্ধ কিছু বীর সন্তানের চোখ থেকে।
সেই সব চোখে তখন শুধু ভাষাকে টিকিয়ে রাখার স্বপ্নে বিভোর ছিলো,জীবন সেখানে তুচ্ছ।
বছর ঘুরে আসে ৮-ই ফাল্গুন,
রাঙে প্রকৃতি, শিমুল,পলাশ,কৃষ্ণচূড়ার নীরব ভালোবাসায় বাংলার বুক যখন সিক্ত, তখন হৃদয়ে আলোড়ন তোলে,
শফিক,বরকত,জব্বারের মতো সাহসী যুবকের বজ্রকন্ঠের শ্লোগান, "রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই "।
না, বীর সন্তানেরা হারিয়ে গেলেও,হয়েছে প্রজন্ম বদল,
বাংলার রাজপথে শ্লোগানে মুখরিত করে নতুন প্রজন্ম,
শুধু কন্ঠ বদল,
বদল হয়নি শ্রদ্ধা,ভালোবাসা শ্লোগানের সংলাপ,
চলবে আমরণ......।
" আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো ২১-শে ফেব্রুয়ারী,
আমি কী ভুলিতে পারি"
------
আরও পড়ুন কবিতা : ভুলেও ভুলতে পারি না

0 Comments