Subscribe Us

সিরাজুল ইসলাম মোল্লা'র ৩টি কবিতা।

 

শিরোনামঃ দায় কার 

কলমেঃ সিরাজুল ইসলাম মোল্লা 

পরিকল্পনা হীন বাড়ি লাইসেন্স হীন গাড়ি পথে পথে,

লাগছে আগুন ঘটছে এক্সিডেন্ট খেয়ালীপনা হতে।

আইনী বৈষম্যে সুযোগ খোঁজে কেউ হয়রানি করতে,

সুযোগে রক্ষক ভক্ষক হয়ে যায় দিনকে রাত করতে।

একাকারে কোথা যাবে কার কাছে প্রতিবাদ করতে,

চায় নৈতিকতা হীন সততা হীন মুখোশ পড়ে চলতে।

দোষারোপের রাজনীতি চলে সমাজ রাষ্ট্র পরিবারে,

দেখিনি আজও সত্যের দায় নিচ্ছে কেউ তো ঘাড়ে।


ভুল চিকিৎসা পরে শুনি হাসপাতাল লাইসেন্স হীন,

এক্সিডেন্ট হলে পরে শুনি গাড়িটা ফিটনেস বিহীন।

বিল্ডিং ধ্বসে পড়লে শুনি তা নাকি অনুমোদন হীন,

ধরা পড়ে দুর্নীতিবাজ মজুদদার- ঋণখেলাপি দীন।

মন্ত্রণালয় সচিবালয় বিচারালয় শিক্ষালয় সব মৃত,

চোরে-চোরে মাসতুতো ভাই, হয় না কভু চোর ধৃত।

সবে বলে যায়, ঘটনা ঘটার পূর্বে দেখার কেউ নাই,

ঘটনা ঘটার পর দায় কার বাকযুদ্ধ শুনতে না চাই।


মরছে মানুষ মারছে মানুষ কে কেনে জানে না সবে,

অথচ অগোচরে বোঝে সব, বোঝে না বাস্তবে তবে।

ধর্ষক খুনি আত্মহনন যায় না চেনা কোন নমুনা হতে,

নৈতিকতা সততার বড় প্রয়োজন চলতে এ জগতে।

দায় কার, কি দায় কতটুকু, হয় না কেন সমন পূর্বে,

কেউ নহে দায় মুক্ত বিবেকের দায়বদ্ধতা হতে ভবে।

আত্মকেন্দ্রিক ধনাঢ্য হবার চিন্তা যদি না ছাড়ি সবে,

স্বার্থবাদ খুঁজবে, দুর্ঘটনা ঘটবে, দোষারোপ চলবে।

                                      -০-

আরও পড়ুন কবিতা : মায়ার সংসার


শিরোনামঃ শব্দ খেলা 

কলমেঃ সিরাজুল ইসলাম মোল্লা 


বসেছে কবিদের মেলা  চলেছে শব্দের খেলা,

খুঁজে শব্দ গাঁথে মালা কেটে যায় সারা বেলা।

হোক না যত ক্ষয় বেলা ভাসবে জীবন ভেলা,

বর্ণের মিলনে চলে জীবনে মননে শব্দ খেলা।

লিখে ছড়া গল্প কবিতা খোঁজে মনে বনলতা,

সাধনে ধর্ম কর্ম রাজনীতির সত্যান্বেষী বার্তা।

অনু পরমানু মাত্রায় প্রতিযোগিতার চেতনায়,

মন্তব্য প্রতিমন্তব্যে ভালোলাগা মর্মার্থ শুধায়।


স্বপ্নের মায়ায় ছন্দের খেলায় কবিতা সাজায়,

কবি মন যেন রবি হয়ে পাঠকের ঘুম ভাঙ্গায়।

শ্রী বিন্যাসে মাত্রা অলংকার উপমার ব্যবহার,

ভাবাবেগ মনে ভাবনালোকে ভাবের সমাহার।

ভাবার্থ প্রকাশে হার,রূপকার্থে বর্ণিল ঝংকার, 

প্রকৃতি দিগন্ত প্রেমি মানবতা মিশে একাকার।

না হোক ভাষার শুদ্ধতা,লিখে প্রতিযোগিতায়,

পদ্য চেয়ে গদ্য আজ কারো মনে শোভা পায়।


আছে অর্থহীন আকথা ঘোরে পাঠকের মাথা,

তবু চলছে চলবে শব্দের খেলা, তাও কবিতা!

গণমানুষে চেতনা হয়ে আত্মার খোরাক বয়ে,

সততা নৈতিকতা জাগ্রত করে সর্বদা নির্ভয়ে।

অনলাইন লাগে বড় সুন্দর আনন্দ মম অন্তর, 

নিত্য নতুন প্রেমি মনে জাগ্রত কবির কণ্ঠস্বর।

বিস্ময় একটা মনে মননে উঁকি মারে গোপনে, 

মান বাদে লাইক কমেন্টে সনদ প্রদান যখনে।

                                  -০-

আরও পড়ুন কবিতা : নগ্ন নগরে বেশ্যার পর্দা


শিরোনামঃ মাটির ঘর 

কলমেঃ সিরাজুল ইসলাম মোল্লা 


সাড়ে তিন হাত মাটির দেহে আছো মন প্রাণ লুকিয়ে,

সাড়ে তিন হাত মাটির ঘরে যাবে মাটির দেহ ঘুমিয়ে।

ভোলা মন, তোমার আমার চির বসত সে মাটির ঘর,

মাটির দেহ মাটির সাথ মিশে যায়,কেউ না লয় খবর।

দরজা নেই, জানালা নেই, নেই সমীরণ, নেই বিছানা,

জীবনের ডাক পড়বে যখন শুয়ে যেতে হবে আপনা।

ওরে মন প্রাণ, মরণে কী তোমার পরিচয় একটু শুনি,

কী নিয়ে কর বাহাদুরি, কার জন্য কর কত কী গুনি।

এসেছি একা,যেতে হয় একা, থাকতে হবে চির একা, 

নেই জল-ফল, হবে না কথা, হবে না কার সাথ দেখা।

ফিরতি টিকেট নিয়ে এসেছি পোষাকহীন শুন্য হাতে,

যেতে হবে সংকোচঢাকা তিন টুকরা কাপড়ের সাথে।

দুনিয়ার অর্থ সম্পদ সবই পড়ে থাকে এই দুনিয়াতেই,

পরিবার পরিজন সবই পর প্রমাণিত বেঁচে থাকতেই।

কবে কে কী নিয়েছে সাথ,যদি বল অবুঝ পাগল মন,

কেন হানাহানি কাড়াকাড়ি সঞ্চয় ভুরিভুরি কর ভুবন!

মাটির পোকা খাবে মাটির দেহ, ভবপোকা খাবে লাভ,

জানিনা কবর আযাব,জানিনা অনন্ত কালের হিসাব।

সঙ্গীবিহীন আঁধার মাটির ঘর, ভাবতেই কাঁপে অন্তর,

ওরে প্রাণ মন,হবে কবে হুশ,সময় থাকতে সুপথ ধর।

                                         -০-

Post a Comment

0 Comments